মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি ট্রাম্পের অধিকাংশ আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে

20

নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় মিড টার্ম নির্বাচনে ভরাডুবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ডেমোক্র্যাটদের দখলে মার্কিন কংগ্রেস, হাউস ও সেনেট।
ভোটগণনার শুরু থেকেই এগিয়ে আমেরিকার বিরোধী শিবির ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষই সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভস রিপাবলিকান পার্টির হাতছাড়া। সেনেট দখল করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতোই চার বছর অন্তর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের একশোর মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সব ক’টিতেই ভোট হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোট হয়েছে হাউস অফ রিরিপ্রেজেন্টিটিভসের ‘ভোটদানের ক্ষমতাহীন’ ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি এবং ৩৬টি প্রদেশ আর ৩টি গভর্নর পদে।
এই ভোটের আগে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভসে রিপাবলিকানদের ২১৮ এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন ছিল। অন্যদিকে, সেনেটে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ৪৭টি এবং রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুটি কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। স্বাভাবিকভাবেই আগামী দুবছর চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে ট্রাম্পকে।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন, আমার নাম ব্যালটে ছিল না, থাকলে আমি জয়ী হতাম। এরপরই বলেছেন, আমি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। তবে এই ভোটের ফলে কিছু এসে যায় না, কারণ আমার হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। আর সবশেষে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের জন্যই হেরেছি।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ভারতের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে।
বাণিজ্য ও শুল্কনীতি: ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা চড়া আমদানি শুল্কের (যেমন ভারতীয় পণ্যের ওপর পূর্বের ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% হওয়া শুল্ক) ওপর ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে কড়া নজরদারি তৈরি হতে পারে। এতে ভারতীয় রফতানিকারকরা শুল্কের অনিশ্চয়তা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন এবং বাণিজ্য আলোচনা কিছুটা সুসংহত হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।
এইচ-১বি ভিসা ও তথ্যপ্রযুক্তি: দুর্বল বা বিভক্ত কংগ্রেস দক্ষ-কর্মী ভিসা বা এইচ-১বি ভিসার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ কমাতে বা বাধা দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রোর মতো ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি: ট্রাম্প কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ও কৌশলগত অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলো আরও বেশি আইনি ও রাজনৈতিক যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে পারে।
তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি: কংগ্রেস বিভক্ত বা ট্রাম্পের নীতিতে বাধা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বা শুল্কজনিত কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের মান ওঠানামার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা ভারতের তেল আমদানি খরচ ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ ফেলতে পারে।
কৌশলগত সম্পর্ক: ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং ‘কোয়াড’ -এর মতো মঞ্চগুলোতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলেরই সমর্থন রয়েছে। ফলে মৌলিক কৌশলগত সম্পর্কে রাতারাতি বড় কোনও নেতিবাচক পরিবর্তনের আশঙ্কা কম।