এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের ফর্ম ৬ পূরণমিথ্যা ঘোষণা বলে গণ্য হবে না: কমিশন

23

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার খসড়া ভোটার তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে, এমনকি যদি তারা আগে নিবন্ধিত ভোটার হয়ে থাকেন।
বুধবার সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে যে, এই ধরনের ক্ষেত্রে ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়া মানেই কোনও মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া নয় এবং এজন্য কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
ভোটার তালিকায় আগে নাম ছিল অথচ এখন বাদ পড়েছেন যেসব ভোটার তাঁদের উদ্বেগ মেটাবে কমিশনের এই স্পষ্টীকরণ। তাঁরা ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে আবেদন করতে দ্বিধা বোধ করছিলেন, কারণ এই ফর্মে একটি ঘোষণা থাকে যে, আবেদনকারী প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করছেন।
নির্বাচন কমিশন স্বীকার করেছে যে, এই ভোটারদের আশঙ্কা ছিল— তাদের আগের নিবন্ধনের কারণে এই ঘোষণাটি ‘মিথ্যা’ বলে গণ্য হতে পারে এবং এর ফলে তারা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এটি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন কোনও ভোটার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ‘ফর্ম ৬’ জমা দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম না থাকা ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে হবে— এমনকি যদি ওই ভোটার আগে থেকেই তালিকাভুক্ত হয়ে থাকেন, তবুও তাঁকে নতুন করে আবেদন করতে হবে।
এতে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনও আবেদনকারী আগে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও যদি এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বা পরে ‘ফর্ম ৬’ জমা দিয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ইআরও যেন ৩১ নম্বর ধারার অধীনে কোনও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন।
এই সুরক্ষার শর্ত হল, আবেদনকারী যেন অন্য কোনও সংসদীয় বা বিধানসভা নির্বাচনী এলাকায় আগে থেকেই তালিকাভুক্ত না থাকেন এবং তাঁর দেওয়া ঘোষণা যেন আইনসম্মত হয়।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ‘ফর্ম ৬’-এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই স্পষ্টীকরণ।
নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাখ্যাকে “শব্দের খেলা” বলে অভিহিত করেছে কংগ্রেস। তাদের মতে, এই ব্যাখ্যায় সংশোধন প্রক্রিয়ার মৌলিক ত্রুটিগুলোর কোনও সমাধান দেওয়া হয়নি। কংগ্রেসের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।
ফর্ম ৬’ নিয়ে বিতর্ক নির্বাচন কমিশনের ভেতর থেকেও আপত্তির মুখে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী এর আগে অনলাইন ‘ফর্ম ৬’ আবেদনে ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত একটি অতিরিক্ত ঘোষণা যুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বিধিবদ্ধ ফর্মে কোনও পরিবর্তন আনতে হলে তা আনুষ্ঠানিক সংশোধনীর মাধ্যমেই করতে হয়; কমিশন এককভাবে এমন পরিবর্তন করতে পারে না।
সান্ধু এই পরিবর্তনকে “অননুমোদিত/অবৈধ” বলে অভিহিত করেছিলেন, অন্যদিকে জোশী উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, আইনি সংশোধনী ছাড়া ফর্মটিতে কোনও পরিবর্তন আনা যায় না।
এই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা নিজে অথবা তাঁদের বাবা-মা কিংবা ঠাকুর্দা-ঠাকুমা/দাদু-দিদিমা পূর্ববর্তী নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কি না।
এবিষয়ে কমিশন ১৪ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করেছে, যা ‘নীলোৎপল দত্ত ও অন্যান্য বনাম নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য’ মামলায় দেওয়া হয়েছিল।
ওই মামলায় আবেদনকারীরা—যারা নতুন ভোটার ছিলেন না—যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ‘ফর্ম ৬’ জমা দিলে তাঁদের একটি মিথ্যা ঘোষণা দিতে হবে। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, তাঁদের এই আশঙ্কা অমূলক।