মেঘালয়ের রঞ্জি দল বরখাস্ত আদালতের নির্দেশে নতুন দল মেঘালয়ের

25

নিউজ ডেস্ক: চরম বিশৃঙ্খলার মুখে মেঘালয়ের ২০২৬-২৭ মরশুম। রঞ্জি ট্রফি প্লেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের জন্য দলটিকে রাতারাতি বদলে ফেলে সেখানে নতুন ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ মেঘালয় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
এই আকস্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে গত সপ্তাহে মেঘালয় হাইকোর্টের রায়। আদালত মূল দলটিকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে। রায়ে এমসিএ সভাপতি জেমস সাংমার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, সচিব রেনাল্ড খারকামনির সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বহাল রাখা হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ‘অ্যাপেক্স কাউন্সিল’ অংশের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত ও দল নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মেঘালয়ের অনূর্ধ্ব-২৩ মহিলা ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলেও, সে বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে খারকামনিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানালেও শেষ পর্যন্ত রায় বদলাতে ব্যর্থ হন।
২ অক্টোবর শিলংয়ে মেঘালয় বনাম নাগাল্যান্ড ম্যাচ শুরুর দিন, আগের দলের ক্রিকেটাররা মাঠে উপস্থিত হন, যদিও আগের দিনই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের মাঠে নামার অনুমতি নেই। সেখানে ম্যাচ রেফারি অরিন্দম সরকার তাদের বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করে দেন। তিনি তাদের জানান যে, বিসিসিআই নতুন একটি দল নিবন্ধন করেছে, তাই তাদের ব্যাগ গুছিয়ে মাঠ ত্যাগ করতে হবে।
মূল দলের এক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, ম্যাচ শুরুর আগের সভায় ম্যাচ রেফারি তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতেও তাঁদের কোনও সমস্যা হবে না, কিন্তু রাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ক্রিকেটার বলেন, আমরা ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত অনুশীলন করেছি। আমাদের অধিনায়ক কিষান লিংডো ম্যাচ-পূর্ববর্তী সভায় অংশ নিয়েছিলেন এবং আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছিল যে মেঘালয় থেকে আমাদের দলটিই মাঠে নামবে। কিন্তু গভীর রাতে পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন আমাদের কোচ নিতেশ শর্মাকে ম্যাচ রেফারি জানান যে, বিসিসিআই এই ম্যাচ খেলার জন্য একটি নতুন দল নিবন্ধন করছে।
এত বিভ্রান্তি সত্ত্বেও, আমরা ম্যাচের দিন মাঠে উপস্থিত হই। ড্রেসিংরুমে আমাদের সব সরঞ্জামও প্রস্তুত ছিল, কিন্তু আমাদের সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়, কারণ আমাদের ‘অবৈধ’ দল হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, বলেছেন তিনি।
বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনও বার্তা আসেনি, আমাদের বর্তমান অবস্থা কী বা ভবিষ্যতে কী ঘটবে, সেবিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি, হতাশ ওই ক্রিকেটার।
ইতিমধ্যে মেঘালয় তিনটি ম্যাচ খেলেছে চলতি রনজি ট্রফিতে।
এই মরশুমে মাঠের বাইরের সমস্যায় জর্জরিত হওয়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র সংস্থা এমসিএ নয়। প্রথম রাউন্ড শুরুর আগেই অরুণাচল প্রদেশকে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল, কারণ তাদের রাজ্য সংস্থার দুটি পক্ষের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছিল।
পরবর্তীতে বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে খায়রুল মজুমদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়। এই কমিটিই ঘরোয়া মরশুমের বাকি অংশের জন্য দল নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছে, যার ফলে অরুণাচল প্রদেশ প্রতিযোগিতার পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে অংশ নিতে পেরেছে।