নিউজ ডেস্ক: মণিপুর থেকে আসাম রাইফেলসকে সরানোর দাবি তাংখুল নাগা সংগঠনের। আসাম রাইফেলসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাগা সংগঠনের।
মণিপুরে দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে ‘আসাম রাইফেলস’ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে, মণিপুরের নাগা-অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে এই বাহিনীকে প্রত্যাহার করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে তাংখুল নাগা সংগঠন।
উখরুল শহরে ‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’-এর ডাকে ‘তাংখুল নাগা লং’ এবং অন্যান্য তাংখুল সংগঠন বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে সংগঠনগুলো উখরুল জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।
টিএনএল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘তাংখুল শানাও লং’-এর সভানেত্রী থিংরেইফি লুংহার ওশি বলেন, চলতি সংঘাত নাগা সম্প্রদায়কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, এই সংকটকে একটি ঐতিহাসিক সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত; যার মূলে রয়েছে, তাঁর ভাষ্যমতে, অবৈধ কুকি অভিবাসন এবং মণিপুরের পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য।
ওশি অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের একটি কারণ হল, নাগা সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় আসাম রাইফেলসের সদস্যরা সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। তিনি কামজং জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আসাম রাইফেলসের নয়টি চেকপোস্ট থাকার দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নাগা গ্রামগুলোতে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আসাম রাইফেলসের সদস্যদের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যোগসাজশ থাকার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করে ওশি জানান, ওই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহলের কয়েক দিনের মধ্যেই বারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি নাগা-অধ্যুষিত এলাকা থেকে আসাম রাইফেলসকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান এবং সংকট নিরসনের জন্য এটি অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।