পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: আজ সবাই প্রতীক্ষায় ছিল রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের। আজ এই শিল্পনীতি প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যুৎ শুল্ক থেকে ইপিএফ। রাজ্যের শিল্পের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আর শিল্পনীতি ঘোষণার দিনই সিঙ্গুর নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
সিঙ্গুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ করব। সেই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু একটা করব।”
২০০৬ সালে সি পি এম হুগলির সিঙ্গুরে প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগে রাজ্যে ছোট গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন কৃষকের একাংশ। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০০৮ সালে সিঙ্গুরে এই আন্দোলন আরও প্রখর হয়। এই পরিস্থিতির জেরে টাটা মোটরস কাজ বন্ধ করে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে। পরে গুজরাটে তৈরী হয় ন্যানো কারখানা। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসে সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তৃণমূল সরকার। কিন্তু, তাতেও সাফল্য আসেনি। উর্বরতা না থাকায় সেই জমিতে চাষও হয়নি, শিল্পও হয়নি।
তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছর রাজ্যে শিল্প আসেনি বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর এই শিল্পকেই পাখির চোখ করেছে নতুন সরকার। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে শিল্পেও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বিজেপি যে বাংলায় শিল্প ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর তা বারবার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শিল্পমন্ত্রীর কথায় বোঝা গেছে।