পুরভোটে অনিশ্চয়তা, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চ রায় না দেওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে না, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

34

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: কলকাতা পুরভোট কবে হবে ? এখনো পর্যন্ত অনিশ্চয়তা জারি। কারণ এই বিজ্ঞপ্তি জারির ওপরে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা পুরসভার নতুন করে ওয়ার্ড বাড়ানো নিয়ে যে মামলা বিচারাধীন, সেই মামলার রায় না বেরোনো পর্যন্ত পুরভোট এর কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্দেশ বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুনরায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চের।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চেই সেই মামলার আইনি জটিলতার বিষয়টি বিচারাধীন।

আজ ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সঠিকভাবে হয়েছে কিনা, সেটা সিঙ্গল বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেবে। তারপরই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে কমিশন।

বৃহস্পতিবার‌ই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছিল, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দিষ্ট মেয়াদী সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নতুন দিন পরে জানানো হবে।

কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯টি করার প্রক্রিয়া শুরু করে প্রশাসন। গোড়াতেই প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে বাম, কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল-সহ দলগুলি আপত্তি জানায়। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন কসবার সিপিএম নেত্রী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপু দাস। মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চে ওঠে। সিঙ্গল বেঞ্চ কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে উভয়পক্ষের কাছে হলফনামা চেয়েছিল। পরবর্তীতে সিঙ্গল বেঞ্চের সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলাকারীরা কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন।

আজ বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, যেহেতু পুজোর ছুটি, এখন ভ্যাকেশন বেঞ্চ চলছে, তাই এখনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। পরবর্তীকালে আগে সিঙ্গল বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেবে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ঠিক হয়েছিল কিনা।

ফলে পুরো ভোট কবে হবে সেটা এখনো পর্যন্ত ঝুলেই রইল।