নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি সিকিমে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ঘোষণা করেছেন যে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে আধার কার্ড আর একমাত্র বা প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা হবে না। বরং আধারের পরিবর্তে উপভোক্তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ভোটার পরিচয়পত্রের EPIC নম্বর ব্যবহার করে পরিচয় যাচাই করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই সরাসরি টাকা দেওয়া হবে। যার অর্থ এখন থেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি আধার কার্ডের পরিবর্তে ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বিরোধী দলনেতা এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই ষড়যন্ত্র অত্যন্ত গভীর—বিষয়টি বোঝার জন্য সময় নিন।
সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, এসআইআর-এর আড়ালে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, এটা এখনই থামানো না হলে আরও অনেক নাম বাদ পড়বে। কাদের নাম সবচেয়ে বেশি বাদ দেওয়া হচ্ছে? যারা বিজেপির ওপর ক্ষুব্ধ।
এরপর রাহুল বলেছেন, ভোটার তালিকা থাকা উচিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের হাতে, কিন্তু বর্তমানে তা রয়েছে মোদী সরকারের কর্মচারী জ্ঞানেশকুমারের হাতে। ভোট চুরির ক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ আমরা হাতে-নাতে প্রমাণসহ ধরে ফেলেছি। এমন একটি তালিকা তৈরির প্রস্তুতি চলছে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটি সর্বদা বিজেপির, আর এখন এই তালিকাটিই নির্ধারণ করবে যে আপনি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না।
আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ডের বিরোধিতা করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, যারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে— তাদের নাম বেছে বেছে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। নাম বাদ মানেই— ভোট দেওয়ার অধিকার গেল। আর ভোট দেওয়ার অধিকার গেল মানে— নাগরিক অধিকারই গেল।
রাহুল লিখেছেন, এভাবেই আপনি এক অপহৃত গণতন্ত্রের অদৃশ্য নাগরিকে পরিণত হবেন— যেখানে জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করে না, বরং সরকারই নিজের পছন্দমতো মানুষ বেছে নেয়।
রাহুল গান্ধীর আশঙ্কা, আজ হয়তো পঞ্চায়েতি রাজের প্রকল্পগুলো হারাবেন, আগামীকাল কি তবে রেশন? পেনশন? মনরেগা? আবাসন? শিক্ষাবৃত্তি? নাকি সংরক্ষণ ব্যবস্থা—সবই কি এর আওতায় আসবে?
গোটা বিষয়টির বিরোধিতা করে রাহুল গান্ধীর বার্তা, এটি শুধু নির্বাচনে জেতার রাজনীতি নয়, বরং এটি নির্বাচন ছিনতাই করার এক কৌশল এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার এক স্থায়ী বন্দোবস্ত। ভোট দেওয়া আপনার অধিকার, কোনও শর্ত নয়। একজন গরিব মানুষের পেনশনকে তার ভোটার কার্ডের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা যায় না। এটি কেবল ভোট চুরি নয়—এটি মানুষের অধিকার চুরি। আমরা এটা হতে দেব না।