নেপালে হড়পা বানে মৃত ৩৯২, নিখোঁজ ২৮৮ ভারতীয়

50

নিউজ ডেস্ক: শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত ৩৩২। নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার, যার মধ্যে ২৮৮ ভারতীয়। ২১ ভারতীয় পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে, এঁরা সবাই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, তামিলনাড়ুর ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হচ্ছে। চিনের তিব্বত সীমান্তে দুশোর বেশি ভারতীয় সাহায্য চেয়ে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৫ জন বর্তমানে রয়েছে দারচেনে। ভারতের যে ২৮৮ জনকে পাওয়া যাচ্ছে না তাঁদের মধ্যে ত্রিশূলী বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী ছিলেন ৭৩ জন।
প্রায় দুশো ভারতীয় নিরাপদে আছে এবং তারা সাহায্য চেয়েছে। এর মধ্যে তিব্বতের ছোট গ্রাম দারচেনে আছে ৯৫ জন। দারচেন থেকে নেপালে ফিরতে তারা হিলসার দিকে এগোচ্ছে। চারজন ভারতীয় আছে জিলং সিটিতে, ৩০ জন সাগার পথে এগোচ্ছে জুটুলফুক এলাকা থেকে, জানিয়েছেন রণধীর জয়সওয়াল। এ ছাড়া ৬০৭০ জন ভারতীয় রয়েছে অন্যান্য এলাকায়।
বুধবার সকালে তিব্বতে হিমবাহ-হ্রদে বিস্ফোরণের ফলে নেপালের ভোটে কোশি নদী প্লাবিত হয়। যার প্রথম ধাক্কা লাগে তিব্বত ও নেপাল সীমান্তের জিরং পোর্টে। এরপর নেপালের রায়াসু জেলা ভেসে যায়। নেপালের অন্তত তিনটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে হড়পা বানে।
হড়পা বানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের রাসুয়া, ধাদিং ও নুয়াকোট জেলা। ভোটে কোশি নদীর মোহনায় লেন্ডে থেকে জল ঢুকেছে এই তিন জেলায়। তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ, এর মধ্যে ২৬০ বিদেশি পর্যটক। চিন সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, এদের মধ্যে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের বিহারের বাল্মিকীনগর ব্যারেজ দুপুরে জল ছেড়েছে ৮৮ হাজার কিউসেক আর গতরাতে ছেড়েছে দেড় লক্ষ কিউসেক।
নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। ভারত পাঠিয়েছে ৩৭.৫ টন খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লক্ষ ডলার সহায়তা দিচ্ছে নেপালকে। নেপাল, ভারত ও চিনে খোলা হয়েছে হেল্পডেস্ক ও সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি নম্বর।
বৃহস্পতিবার হড়পা বানে বিধ্বস্ত নুয়াকোট জেলা পরিদর্শন করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। সেখানে তিনি বন্যাক্রান্ত, তাদের ঘরবাড়ি দেখেন ও বন্যার্তদের সঙ্গে কথা বলেন। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট বলেছেন, হেলিকপ্টারে করে খাবার, তাঁবু, ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের কাছে। পাঁচ হাজারের বেশি জওয়ান ও পুলিশ উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০ বিদেশি সহ ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।