এস আই আর জটে চাকরি চলে যাওয়ার পথে যুবকের, অবশেষে রক্ষা করল কলকাতা হাইকোর্ট

15

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:এস আই আর জট। আর সেই জটে চাকরি চলে যাচ্ছিল আকাশ সরকার নামের এক যুবকের। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের তরফ থেকে ক্লিয়ারেন্স পেয়েছিলেন। চাকরিও করছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পর নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে গিয়েই বিপদ। অগ্নিবীর’ স্কিমে কর্মরত আকাশ সরকার চাকরি বাঁচাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ। আসলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ গেছে আকাশ সরকারের। শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নয়, চাকরির খাতা থেকেও নাম বাদ পড়তে চলেছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে স্বস্তি। চাকরি বজায় থাকল তাঁর।

এস আই আরে নাম বাদ যায় আকাশ সরকার ও তাঁর বাবা ফারুকের। তারপর তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেন তাঁরা। এপ্রিল মাসে আবেদন করলেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ব্যস।‌পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে গিয়েই আটকে যান আকাশ।

নভেম্বর মাসেই পুলিশের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন আকাশ সরকার কিন্তু তাঁর বৈধতা ৬ মাসেই শেষ হয়ে যায়। তাই পুনরায় আবেদন করেন। আবেদন পড়েই থাকে। তিনি প্রশ্ন করেন ২০২৫-এর নভেম্বর আর ২০২৬-এর জুন মাসের মধ্যে কী এমন বদলে যেতে পারে যে ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছেন না তিনি?
তাঁকে জানানো হয় এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ায় আবেদন গৃহীত হচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।‌

কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক ১৭ জুন নির্দেশ দেন, আকাশ ও তাঁর বাবার করা আবেদনের শুনানি যেন দ্রুত শেষ করা হয়। এই নির্দেশের পরই গত ২৫ জুন ট্রাইবুনালে তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়। ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।‌

আকাশ সরকারের আইনজীবীর স‌ওয়াল, আকাশের ঠাকুমা-ঠাকুরদার নাম ২০০২-এর এসআইআর তালিকায় ছিল। এসআইআর কখনও আকাশের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে না। বারবার রাজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। ওঁর চাকরি নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। দ্রুত আকাশের আর্জি শোনা না হলে এই সমস্যা থেকে অব্যাহতি পাবে না আকাশ।”

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পাণ্ডে জানান, এসআইআর থেকে নাম বাদ গেলে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিষয়টি ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসে জানায়। তবে কমিশনের বক্তব্য ছিল, হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে সাতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে।

নাম ফিরে আসায় পুলিশের ছাড়পত্র পেয়েছে আকাশ। ফলে, অগ্নিবীর হিসেবে আবার চাকরিতে ফিরতে পারলেন ওই যুবক।