প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে সঙ্গী ‘বিতর্ক’

9

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৬ দিনের বিদেশ সফরে সঙ্গী হয়ে রইল বিতর্ক। যে বিতর্কের শুরু হয়েছিল নরওয়েতে এবং পিছু ছাড়ল না ইটালিতেও। এই দুটি দেশ সহ মোদী গিয়েছিলেন আরব আমিরশাহি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসেও।

৪৩ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবার নরওয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি মোদী। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে গোটা বিশ্বে নরওয়ের স্থান প্রথম আর ভারত রয়েছে ১৫৭ নম্বরে। স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কিছু না বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একাকী হেঁটে যাওয়া গোটা বিশ্বেই প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এবং নরওয়েতে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছতেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একটি পোস্টে লিখেছেন, এবছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি নরওয়ে তাদের সম্পদ তহবিল থেকে গৌতম আদানিকে আর সাহায্য করবে না জানিয়েছিল, আর ১৮ মে মোদী গিয়েছেন নরওয়ে। এরপর রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ, প্রিয় মোদী, আপনার অনুরোধে কি নরওয়ে আপনার বন্ধুর আদানির নাম কালো তালিকা থেকে মুক্ত করবে?

ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে মোদীর টফি দেওয়ার রিল সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু সেনিয়েও কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। রোমের ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। সেখানেই হয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সাক্ষাৎপর্বে মেলোনিকে ‘পার্লে মেলোডি’ চকোলেট উপহার দেন মোদী।

মোদীর টফি-কাণ্ডকে কটাক্ষ করে রাহুল এক্স পোস্টে লেখেন, ‘আমাদের মাথার উপর দিয়ে অর্থনৈতিক ঝড় বয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইটালিতে গিয়ে চকোলেট বিলি করছেন। কৃষক, যুবসমাজ, মহিলা, শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী-সবার চোখেই জল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসছেন, হাসিমুখে রিল বানাচ্ছেন। আর তা দেখে শুধু বিজেপির লোকেরা হাততালি দিচ্ছে। এটা নেতৃত্ব নয়, এটা প্রহসন।

এর পাশাপাশি, মোদীর দেশের প্রত্যাবর্তনের ঠিক আগেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘গদ্দার’-মন্তব্যের জেরে ঘরোয়া রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

রাহুল গান্ধী তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র রায়বেরেলিতে এক জনসভায় বলেন, এরপর কোনও আরএসএস নেতা যদি আপনার বাড়িতে আসে, তারা যদি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর কথা বলে, তা হলে তাকে পাল্টা বলুন, আপনার প্রধানমন্ত্রী গদ্দার, আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গদ্দার, আরএসএস গদ্দার। আপনারা ভারতকে বিক্রির কাজ করছেন, আপনারা সব স্বশাসিত সংস্থাকে আক্রমণ করছেন, আপনারা আমাদের সংবিধানকে আক্রমণ করছেন, আম্বেদকরকে আক্রমণ করছেন, মহাত্মা গান্ধীকে আক্রমণ করছেন।

রাহুলের মন্তব্যের পরই ‘প্রধানমন্ত্রীর অবমাননা’ অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রচারে নেমে বিজেপি রাহুলকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে। এ ছাড়া বিজেপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে কংগ্রেস নরওয়ের পতাকার বদলে সুইডেনের পতাকা ব্যবহার করেছে। যদিও অন্য আরেকটি সভায় রাহুল গান্ধী বলেছেন, ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই, বরং আবার বলব নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ দেশদ্রোহী।

এদিকে, মেলোনিকে দেওয়া মোদীর উপহারের ‘নাম বিভ্রাটে’ বুধবার চকিত-উত্থানের সাক্ষী হয়েছে শেয়ার বাজার। বুধবার ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর শেয়ার কেনার ধুম পড়ে যায় গোটা ভারতে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা যায়, সমনামী অন্য এক সংস্থার শেয়ার কিনেছেন বাজারে লগ্নিকারীরা, যার সঙ্গে ‘মেলোডির’ কোনও সম্পর্কই নেই।

‘পার্লে’ মূলত রিয়্যাল এস্টেট এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত। অন্য দিকে, ‘মেলোডি’ চকোলেট তৈরি করে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্থা— পার্লে প্রোডাক্টস। এই পার্লে প্রোডাক্টস শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত সংস্থা নয়। দুই সংস্থার নামের সঙ্গেই ‘পার্লে’ জুড়ে থাকায় লগ্নিকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।

২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন ভারত ও ইটালির প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।