নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছিল শুক্রবার রাত থেকে, থামল শনিবার বিকেলে। একের পর এক নেতানেত্রীকে আটক করল পুলিশ। জ্ঞানেশকুমারের ইস্তফা, এসআইআর প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি।
কিছুতেই যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ করতে দেওয়া যাবে না মনোভাব নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সক্রিয় ছিল অমিত শাহর দিল্লি পুলিশ। দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব হস্টেল, হোটেল, রেস্ট হাউস, কমিউনিটি হল, মাদ্রাসা, মসজিদে গিয়ে দিল্লি পুলিশ প্রচার করেছিল যে শনিবার যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেউ যোগ দিতে গেলেই আটক করা হবে। শুক্রবার দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রধানত তরুণ-তরুণীদের আটক শুরু হয়।
সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন। বেলা এগারোটা নাগাদ মুম্বাই থেকে সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে নিয়ে বিমান নামে দিল্লির বিমানবন্দরে। দীপকে-রাঙ্কা-সৌরভ মাটিতে পা দেওয়ার আগেই বিমানে উঠে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎ দীপকে-কে গুরুগ্রাম, সৌরভ দাসকে দিল্লি এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দ্বারকায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এদিকে, মুম্বাইয়ে আটক করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে।
রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকপত্র জমা দিতে কলকাতা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলার তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দিল্লির বাসভবন থেকে বেরোতেই দেয়নি পুলিশ। কয়েকজন সাংসদকে নিয়ে তিনি দিল্লির সাউথ এভেনিউর একটি বাস স্টপেজে গণতন্ত্র বাঁচাও দেশ বাঁচাও লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বসেছিলেন। পুলিশ মমতাকেও রেহাই দেয়নি। মমতা, ডেরেক, দোলা সেন, সাকেত গোখলে, সমিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডলকে আটক করে পুলিশ।
দুপুর একটার সময় দীপংকর ভট্টাচার্য, যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্তভূষণের সঙ্গে মিছিল করে এগোচ্ছিলেন আইসা সভানেত্রী নেহা বরা। যন্তরমন্তর নয়, তাঁদের অভিমুখ ছিলেন দিল্লি হাটের দিকে। তাঁদেরও আটক করে পুলিশ।
সিপিএম সম্পাদক এম এ বেবি, বৃন্দা কারাত, সাংসদ জন ব্রিটাস, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও রাস্তা থেকে তুলে নেয় পুলিশ। ছাড় পাননি দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রতিবাদে যোগ দিতে বেরিয়েছিলেন আইনজীবীরা। তাঁদেরও আটক করে পুলিশ। পরে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে আইনজীবীরা ছাড়া পেয়েছেন।
সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আটকাতে দিল্লিকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। গোটা দিল্লিতে ব্যারিকেড। যন্তরমন্তরের রাস্তায় কাঁটা লাগানো। রাস্তায় অন্তত ৩০ হাজার পুলিশকর্মী ও আধাসেনা জওয়ান টহল দিচ্ছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে এলেই আটক করা হবে – চলছে পুলিশের মাইকিং। অন্তত দশটি আটক কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। যন্তরমন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনও। বহু ট্রেন আটক রয়েছে, বহু ট্রেন বাতিল, বহু ট্রেন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্তত দেড় কোটি যাত্রীর ওপর। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যারা আসছিল প্রায় সবাইকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশ। কিছু ক্ষেত্রে ট্রেন থেকে আটক করা হয়েছে তরুণ-তরুণীদের।
Prev Post