অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ পুলিশের, গ্রেফতার ৪

19

নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সমাজ মাধ্যম থেকে শুরু করে মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রেফতারির পাশাপাশি ৩জনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত। বেআইনি ভাবে জমায়েত করা, পথ আটকানো, আঘাত করা, গালিগালাজ এই সমস্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‌ এলাকায় পৌঁছোতেই তাঁকে শুরু হয় বিক্ষোভ। ‌তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম , ইট ছোড়া হয়। ‘চোর’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয় এলাকা। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাইকে করে কিছুটা এগোতে গেলেও বাধা পান। তারপর তিনি যখন বাইক থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন, তখনও উত্তেজনা এতটুকু কমেনি। হেলমেট পরে এগিয়ে যান। ধস্তাধস্তিতে ছিঁড়ে যায় জামা। তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অনেকক্ষণ বসে থাকার পর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার পর চরমে চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। যদিও ঘটনার নিন্দা করেছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তারপরও এ নিয়ে আক্রমণ প্রতি আক্রমণ থামছে না। রবিবার সোনারপুরকাণ্ড নিয়ে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তার মন্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে ‘গোবর জল দিয়ে স্নান করে শুদ্ধিকরণ করা উচিত।’ তাঁর অভিযোগ, ‘ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে বিষয়গুলিকে সামনে এনে প্রচার পেয়েছেন, অভিষেকও সেই পথেই হাঁটতে চাইছেন। তবে তিনি সেইভাবে সফল হতে পারবেন না।’

বিজেপি সাংসদের আরও দাবি, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাটক করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা তাঁকে সেই সুযোগ দেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল কখনও শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে না।’