পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীরা মোবাইলের মাধ্য়মে হাজিরা দিতে পারবেন

18

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: ছুটির দিনে রাজ্য সরকারী কর্মীদের জন্য নবান্ন থেকে বড় নির্দেশ। এবার থেকে দফতরে হাজিরা দেওয়া প্রমাণ করতে আলাদা করে কোনও বায়োমেট্রিক হার্ডওয়্যার মেশিন বসানোর প্রয়োজন নেই। নতুন নিয়মে কর্মীরা সরাসরি অফিসের মধ্যেই নিজেদের মোবাইল ফোনের সাহায্যে হাজিরা দিতে পারবেন। ফলে সরকারের বিপুল খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনই হাজিরা জানান দেওয়া আরও সহজ হবে।‌

অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই আধুনিক ব্যবস্থাকে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়িত করতে হবে। এর জন্য বিভিন্ন দফতরের নিজস্ব সফটওয়্যার সলিউশনগুলি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

এর আগেই সরকারি কর্মীদের হাজিরা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছিল রাজ্য সরকার। ১৫ জুন থেকে নবান্নে বাধ্যতামূলক ‘ফেস রিকগনিশন’ বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল । এইচ ও ডি বাদ দিয়ে সকল কর্মীকে অফিস ঢোকা ও বেরোনোর সময় উপস্থিতি জানান দিতে হবে।‌ এবার সেই নিয়মে কিছুটা বদল। সকাল ১০ টা ১৫ থেকে ১১টার মধ্যে উপস্থিত হলে ‘লেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সকাল ১১টার পর অফিসে পৌঁছলে ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে গণ্য করা হবে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে ‘আর্লি ডিপার্চার’ ধরা হবে।

গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দফতরে বায়োমেট্রিক মেশিন বসানো হলেও তা কাজ করত না বলে অভিযোগ উঠত। নতুন এই মোবাইল-ভিত্তিক জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি চালু হলে দফতরের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থেকেই কর্মীরা অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা নথিভুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ থাকবে বলে মনে করছে অর্থ দফতর।