নিউজ ডেস্ক: নেপালে হড়পা বানে শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা। তিব্বত ঘেঁসা নেপালে বুধবার হড়পা বানের তোড় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেতু, সড়ক, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। নদীর তীরে বসবাসকারী বহু লোক নিখোঁজ।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বিবৃতি দিয়েছেন যে ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী। দুর্গতদের উদ্ধারের কাজ চলছে। নেপালের পাহাড়ি জেলা রাসুয়ার সিয়াপ্রু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রায়সু জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার বলেছেন, বেশকিছু গ্রাম এবং পরিকাঠামো জলের তোড়ে ভেসে গেছে। বহু প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বলেছেন, নিম্নভূমিতে যারা রয়েছে তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিরাপদ স্থানে। নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, প্রশাসন।
তিব্বত থেকে ভোটে কোশি নদী ঢুকেছে নেপালে এবং মিশেছে ত্রিশূলী নদীতে। তারপর ভারতে প্রবেশ করে গণ্ডক নাম হয়েছে।
গত বছর ভোটে কোশি নদীর বন্যায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল, এখনও নিখোঁজ ২৪। এখানেই শেষ নয়, সেবার বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়েছিল নেপাল-চিনের সংযোগকারী সেতু ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ। সেই বন্যা হয়েছিল তিব্বতের একটি হিমবাহ হঠাৎ গড়িয়ে আসায়।
রাসুয়া জেলার সিয়াপ্রু বেসি ও তিমুরে এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বাস করে। নেপালের জলসম্পদ মন্ত্রক ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে হড়পা বানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হড়পা বানের কারণ এখনও অজ্ঞাত। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে যে রাসুয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির কোনও খবর নেই। তবে তিব্বতের দিকে ভারী বৃষ্টির উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তিব্বতের কোনও হিমবাহ-হ্রদ ফেটেছে কিংবা তিব্বত থেকে বেশি জল ছাড়া হয়েছে কি না সেটা দেখছে নেপাল প্রশাসন।
বন্যায় তিব্বতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গিরং সীমান্তের কয়েকটি গ্রামে বন্যার জল ঢুকেছে, নিখোঁজ বহু মনুষ। চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং নিখোঁজদের তল্লাশি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। বিপর্যয় সামলাতে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন জিনপিং।
গণ্ডক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি হয়েছে ভারতে। বিহারের মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন গণ্ডক ও কোশী নদী যেসব এলাকা থেকে বয়ে গিয়েছে তার জেলাশাসকদের সঙ্গে। সতকর্তা জারি করা হয়েছে গণ্ডক নদী সংলগ্ন বিহারে।
নেপালের রাসুয়া জেলার তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন তিমুরে বাজার পুরো ভেসে গেছে। বেশকিছু গাড়ি ও বাড়িঘর ভেসে গেছে জলের তোড়ে।
তিমুরে, সিয়াফ্রুবেসি এবং রাসুয়াগাধি পুলিশ পোস্ট সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। তিব্বত সীমান্তের তিমুরে এলাকায় পাহারারত নেপালের নয় সশস্ত্র জওয়ান নিখোঁজ। হড়পা বানে ইতিমধ্যে ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল প্রশাসন।
নেপালের শক্তিমন্ত্রক জানিয়েছে, হড়পা বানে ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। যা নেপালের মোট জলবিদ্যুৎ সামর্থ্যের ১২ শতাংশ।
পুলিশ, নেপাল সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি এবং উদ্ধার কাজের তদারকি করছেন বলেন্দ্র। এদিকে, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট বলেছেন, সিয়াপ্রু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় জলস্তর এত বেশি যে হেলিকপ্তার নামতে পারছে না।
হড়পা বানের পর ত্রিশূলী নদী উপত্যকার নুয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা ও চিতওয়ান জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে রাসুয়া, নুয়াকোট, চিতওয়ান ও ধাদিং জেলার যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং নিম্নভূমির বাসিন্দাদের নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেছেন, নেপালের বন্যা পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি। মুখ্যসচিব ও ডিজিপি বিষয়টা দেখছেন। আমিও একটা জরুরি বৈঠক করছি।