অভিষেকের পর আক্রান্ত কল্যাণ! মাথায় চোট পেয়ে মাটিতে সাংসদ

10,197

নিউজ ডেস্ক: পরপর দু’দিন আক্রান্ত তৃণমূলের দুই সাংসদ। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা। মারধর, ডিম ছোড়া থেকে শুরু করে জামার কলার ধরে আক্রমণ। এরপর রবিবারও প্রায় একই ঘটনা ঘটল হুগলির চণ্ডীতলায়। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ করে ছোড়া হল ঢিল। দেওয়া হল ‘চোর’ স্লোগানও।

জনতার ছোড়া ঢিলে মাথায় আঘাত পেয়ে রাস্তায় পড়ে যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর চণ্ডীতলা থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। কারা মারল? কেন গ্রেফতার করা হল না তাদের? পুলিশকে পালটা প্রশ্ন শ্রীরামপুরের সাংসদের।

জানা গিয়েছে, শনিবার সোনারপুরের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার প্রতিবাদে এদিন চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাচ্ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময় থানার কাছেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, প্রথমে কালো পতাকা দেখানো হয়। ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। এরপর ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মাথায় আঘাত লেগে রাস্তায় পড়ে যান তিনি।

প্রাথমিক শুশ্রূষার পর কল্যাণ বলেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গে হেঁটে আসছিলাম। বিজেপির লোকেরা চিৎকার করে, গালি দিয়ে ঢিল ছুড়েছে। আমার মাথা দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। আমার আর বলার মতো শক্তি নেই।’ বাংলার মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এর বিচার করবেন। বিজেপির লোকজন আমাদের সব কর্মীদের মারধর করছে। সাংসদদের মারধর করছে। আপনারা কি বাংলায় এই পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন?’

বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে সাংসদ বলেন, ‘এটা শমীক ভট্টাচার্যের মস্তিষ্কপ্রসূত। শুভেন্দু অধিকারী খুনি মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু চাইছেন যেকোনও উপায়ে সবাইকে মেরে ফেলতে। বাংলার মানুষ সচেতন হন। আজ আমায় মারছে। আপনি দূর থেকে দেখছেন। কাল বিজেপির গুন্ডারা আপনার মেয়েকে টেনে ধরবে, তখন আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না।’

পুলিশের দিকেও আঙুল তুলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘শুভেন্দু মাইনে দেন না। থানার আইসি ইচ্ছা করে আমাকে মার খাওয়ালেন।’ তারপরই রাজ্যবাসীর কাছে কল্যাণ আবেদন করে বলেন, ‘বাংলার মানুষ প্রতিবাদ করুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।’

যদিও হুগলি পুলিশ জানিয়েছে, কোনও মারপিটের ঘটনা হয়নি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।