পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত মসজিদ থেকে মাইক খোলার নির্দেশ। কিন্তু এই নির্দেশ কে দিয়েছে ? পুলিশ কার নির্দেশে এই কাজ করছে এবং কোন আইনের বলে এই মাইক খোলা হচ্ছে ? এই সমস্ত প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার আর্জি জমা পড়ল।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আবেদনকারী দানিশ ফারুকি মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান ৷ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ । বুধবার শুনানির সম্ভাবনা । যদিও মসজিদের লাউডস্পিকার জোর করে খুলে ফেলা হচ্ছে, বিরোধীদের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আগেই উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার ।
অন্যদিকে, মসজিদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ১১ অর্থাৎ আগামীকাল মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবদুল সামাদ নামে এক ব্যক্তি । রাজাবাজার থেকে শিয়ালদা হয়ে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, সেই আবেদন মঞ্জুর হয়েছে শর্তসাপেক্ষে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা উল্লেখ করেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ।
গত বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ কার্যকর করতেই রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে । সেই অভিযানে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির থেকেও নিয়ম মেনে লাউডস্পিকার খুলেছে পুলিশ বলে দাবি করেন তিনি ।
মসজিদের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজাবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে মিছিল করার অনুমতি দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য । কতজন লোক নিয়ে মিছিল হবে, কতক্ষণ ধরে মিছিল হবে, সেই সব শর্ত দেওয়া হয়েছে আদালতের নির্দেশে। সেই সঙ্গে পুলিশ যে মিছিলের অনুমতি দেয়নি, তারও সমালোচনা করেন বিচারপতি।
হাইকোর্টের নির্দেশ, ৭৫০ জন লোক নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে এক ঘন্টার মধ্যে মিছিল শেষ করতে হবে। মাইক ব্যবহার করা যাবে না। জমিয়ত-ই-উলেমার পক্ষ থেকে এই মিছিলের আবেদন করা হয়েছিল।
মিছিলে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার সমলোচনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বিচারপতি বলেন, “এটা অন্য কোনও মোটিভ নিয়েই অনুমতি দেয়নি পুলিশ।” বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ৩ অগস্ট অনুমতি চাওয়ার পর গত শুক্রবার ৭ অগস্ট রাত সাড়ে ৮ টায় জানাচ্ছেন যে অনুমতি দেবেন না? আগেও জানাতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, “এর আগে একটি মিছিলে আনরুলি মব ছিল, তাই আদালত অনুমতি দেয়নি।”
রাজ্যের আইনজীবী এজি সুরজিত মিত্র জানান, “কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। আমরা সপ্তাহের মাঝে এই মিছিলের অনুমতি দিতে পারি না। ২ হাজারের বদলে বড় জোর ৩০০ জন থাকতে পারে মিছিলে। গড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস সি মল্লিক রোড ইএম বাইপাস থেকে মিছিল হতে পারে।”
মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, পুলিশ কারণ বলতে পারত। রবিবার করতে বলতে পারত। মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও কমানো যেতে পারত। কিন্তু তা পুলিশ করেনি।
সওয়াল জবাব শেষ হওয়ার পর শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।