নিউজ ডেস্ক: ফের জ্ঞানেশকুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সুপ্রিম কোর্টে আবেদন পেশ করার আগে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল বলেন, আপনি অপরাধ করেছেন জ্ঞানেশকুমার, রাজসাক্ষী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
জ্ঞানেশকুমার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কি না প্রশ্নে রাহুল গান্ধী বলেন, বার্তা আসে। বার্তা আসছে এবং তিনি এই সাংবাদিক সম্মেলন দেখছেন।
জ্ঞানেশকুমারকে বার্তা দিয়ে রাহুল বলেন, রাজসাক্ষী হয়ে যান। আপনি অপরাধ করেছেন ঠিকই, কিন্তু সত্যি বলতে, আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করেছেন। আপনি ভুল করেছেন ঠিকই, কিন্তু এই ভুলের মূল পরিকল্পনাকারী আপনি নন।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাচ্ছে বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লক। ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাহুল গান্ধীর। এইসঙ্গে তিনি জ্ঞানেশকুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবি করেছেন। রাহুল বলেন, যতক্ষণ না মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা হচ্ছে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিরোধী শিবিরের এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
রাহুল দাবি করেন যে, ইডি, সিবিআই এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রায় ২০০ আধিকারিক বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তথ্য দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আড়াল করছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিরোধী দল তাদের আন্দোলন থেকে পিছু হটবে না।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা, কিন্তু বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করতে পারি না। এবিষয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধান বিচারপতি সঠিক কথা বলেছেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করব।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে সরকার জ্ঞানেশকুমারকে আড়াল করছে এবং দাবি করেছেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপরাধ সম্পর্কে বিরোধী দলের কাছে তথ্য রয়েছে।
রাহুল অভিযোগ করেন যে জ্ঞানেশকুমার কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির চাপে। তিনি বলেন, আমরা জানি যে প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ, ডোভাল এবং আদানি আপনাকে বাধ্য করেছেন। আমরা তা জানি।
তিনি আরও বলেন যে জ্ঞানেশকুমারের ওপর কী ধরনের চাপ আছে, তা বিরোধী দল বুঝতে পারছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ, নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের আন্দোলন চলবে। ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করছে যারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।
রাহুল বলেন, এই বিক্ষোভ বৃহত্তর প্রতিরোধের অংশ। ককরোচ জনতা পার্টির নাম না করে তিনি যোগ করেন, এখানে কোনও সমান্তরাল বিক্ষোভ নেই, এগুলো সবই একটিই আন্দোলন। তিনি সংবিধান রক্ষার এই আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
রাহুল আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সংবিধান রক্ষায় যাঁরা লড়াই করছেন, বিরোধী দল তাঁদের সমর্থন করবে। তিনি বলেন, আপনারাও যদি আমাদের মতোই সংবিধান রক্ষা করেন, তবে আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা আপনাদের সমর্থন ও সহায়তা করব এবং আপনাদের সুরক্ষার বিষয়টিও দেখব, আর আমরা আপনাদের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করি।
কংগ্রেস নেতা জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের অপসারণ এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরানো। রাহুল বলেন, আন্দোলন একটাই। এই আন্দোলনের লক্ষ্য জ্ঞানেশকুমারের অপসারণ এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহকে অপসারণ করা। এদের সরিয়ে দিতে হবে। আমরা থামব না।