বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই, হাইকোর্টে ধাক্কা মমতাপন্থী তৃণমূলের

43

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: বিরোধী দলনেতা বিতর্কে হাইকোর্টে ধাক্কা খেলে মমতাপন্থী তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বিরোধী ব্লকের বিধায়কদের নির্বাচনে আপাতত কোন হস্তক্ষেপ করতে চাইল না কলকাতা হাইকোর্ট। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলেন না বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ফলে আপাতত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে হস্তক্ষেপ করল না আদালত। তবে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি, জুলাই মাসে ফের শুনানি।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছিল এই মামলা। বৃহস্পতিবার থেকে বিধানসভার অধিবেশন। তার আগে এই মামলায় রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা হলেও বিধায়ক সন্দীপন সাহা সহ ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার কথা বলেন।
বুধবার শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স‌ওয়াল করেন, ‘কাল (বৃহস্পতিার) অধিবেশন শুরু হচ্ছে। কোনও ভোটের বিষয় হলে কে সিদ্ধান্ত নেবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? মমতা বন্দোপাধ্যায় নেওয়ার অধিকার রাখে। কারণ তিনি পলিটিক্যাল পার্টি।’
স্পিকারের পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্যের পালটা সওয়াল ছিল, ‘এই মামলাটি করা হয়েছে ভুলটাকে আড়াল করার জন্যে। ৬ মে কোনও রেজোলিউশন হয়নি। ১৯ মে ব্যাকডেটে সই করা হয়। এই আবেদনটি খারিজ করা হোক।’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, ‘৯ মে একটি বার্তা দেওয়া হয় বিরোধী দলনেতা নিয়ে। তারপর ১৮ মে স্পিকার দলের কাছে রেজোলিউশন চায়। তার পরের দিনই মিটিং ডাকা হয়। ৬ এবং ১৯ মে এই দুই দিনই কোনও রেজোলিউশন নেওয়া হয়নি। শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। ২০ মে স্পিকার বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব মেনে নেন। কিন্তু একটা স্পিকারের কাছে ক্ষমতা আছে বদল করার।’
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এরপর একাধিক প্রশ্ন করেন। বিচারপতির প্রশ্ন,
৯ মে স্পিকার প্রথম চিঠি পাওয়ার পর তা ঝুলিয়ে রাখলেন কেন?

কেন কোনও বৈঠক ডাকলেন না, প্রথম প্রস্তাব নিয়ে কেন কোনও সিদ্ধান্তও নিলেন না?

৩ জুন দ্বিতীয় আবেদন আসার পর, স্পিকার দ্রুত সেটি গ্রহণ করলেন কেন?

প্রথম আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্পিকারের বাধা কোথায় ছিল?

দলের বক্তব্য না শুনে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি?

প্রথম দাবিকে উপেক্ষা করে দ্বিতীয় দাবিকে গ্রহণ করার কারণ কী? তা হলে দুই পক্ষকে ডেকে সিদ্ধান্ত নিলেন না কেন?

যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন?

আগে তো ৭৮ জনের সমর্থনের দাবি ছিল। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করা হল না কেন?

জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ার পরও অন্য পক্ষকে না শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি?

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভায় তৃণমূলে ভাঙনে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে হাত মেলান বিক্ষুদ্ধ বিধায়করা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বাক্ষর অনুযায়ী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন স্পিকার। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে।