প্রয়াত টুটু বসু । শোকস্তদ্ধ ময়দান

67

কলকাতা: বাংলার ক্রীড়াপ্রশাসনে যুগাবসান। স্বপনসাধন বসু ওরফে টুটু বসুর প্রয়াণে শোকস্তদ্ধ ময়দান। সোমবার সন্ধেয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রথম থেকেই রাখা হয় ভেন্টিলেশনে। টুটু বসুর অসুস্থতার খবর পেয়ে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান সদ্য ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া নিশীথ প্রামাণিক। হাসপাতালে যান আইএফএ সভাপতি কল্যাণ চৌবেও। খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ায় আর বাঁচানো যায়নি তাঁকে। গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

আজ, বুধবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে টুটু বসুর শেষকৃত্য। বালিগঞ্জের বাড়িতে তাঁর মরদেহ শায়িত থাকবে সকাল ১০টা পর্যন্ত। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর নশ্বর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে ভবানীপুর ক্লাবে। সেখান থেকে সংবাদ প্রতিদিনের দফতরে। সাড়ে ১১টা নাগাদ টুটু বসুর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর প্রাণ প্রিয় ক্লাব মোহনবাগানে। সেখানেই তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন অনুরাগীরা। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।

কলকাতা ময়দানে অজাতশত্রু ছিলেন টুটু বসু। মাঠে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের লড়াইয়ের প্রভাব তিনি ব্যক্তি জীবনে পড়তে দেননি। ময়দানে দুই ক্লাবের সমর্থকদের কাছেই তিনি ছিলেন অভিভাবক-সম। স্বভাবতই তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ চির প্রতিদ্বন্দ্বী লাল-হলুদ সমর্থকেরাও। শোকপ্রকাশ করেছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোহনবাগান ক্লাবের সচিব ছিলেন টুটু বসু। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সামলেছেন সভাপতির দায়িত্ব। ২০১৮ সালে ফের দু’বছরের জন্য সচিব হন। ২০২০ থেকে ২০২৫ দু’দফায় ফের মোহনবাগানের সভাপতির দায়িত্ব সামলান। গত বছর তিনি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

ফুটবল প্রশাসক ছাড়াও একাধিক পরিচয় ছিল টুটু বসুর। রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হয়েছিলেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী এবং সংবাদপত্রের মালিক। গত বছর মোহনবাগান দিবসে তাঁকে সন্মান জানিয়ে ‘মোহনবাগান রত্ন’ দেওয়া হয়। আজ সত্যিই রত্নহারা হল মোহনবাগান।