কামাখ্যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জলাধারের ব্যবস্থা বন বিভাগের

35

নিউজ ডেস্ক: বন্য প্রাণীদের পানীয় জলের সংকট দূর করতে অভিনব পদক্ষেপ অসম বন বিভাগের। নগাঁওয়ের শিলঘাট কামাখ্যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃষ্টি তথা প্রাকৃতিক জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বন বিভাগের তরফে। বনাঞ্চলের একটি ঝর্নার কাছে বোল্টার দিয়ে দেওয়াল গেঁথে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিভাগের কর্মীরা। এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে জঙ্গলের পশুরা সেখানে গিয়ে জল খেতে পারবে। চলতি মে মাসেই এই কাজ শুরু হয়েছে।

ছবি, নিজস্ব
বুনো জীব জন্তুদের জন্য পানীয় জলের আধারের ব্যবস্থা করার কারণ হিসেবে আরও যেটা জানা যাচ্ছে, বর্ষার মরশুমে বুনো জীবজন্তুরা পাশেই ব্রহ্মপুত্রে জল খেতে যায়। কিন্তু খরার সময় নদে চর পড়ে। সেসময় সমস্যায় পড়ে বুনো জীবজন্তুরা। সেকারণেই এই পদক্ষেপ রাজ্য বন বিভাগের।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, নির্মাণ কাজ চলাকালীনই জলাধারে জঙ্গল থেকে হাতির পাল নেমে আসে। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশেই রয়েছে অসমের গর্ব ঐতিহ্য কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান। তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বুনো হাতি, বাঘ, গণ্ডার, মোষ সহ বিভিন্ন ধরনের বন্য পশুর বিচরণ রয়েছে। তাদের সুবিধের কথা মাথায় রেখেই রাজ্য বন বিভাগের এই প্রকল্পের সূচনা।
জানা যাচ্ছে, কামাখ্যা সংরক্ষণ বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীজ সম্পদ রয়েছে। এলাকায় অজগর সহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে। বনভূমির মধ্যে একটি ছোট পাহাড়ের উপর রয়েছে ঐতিহাসিক শিলঘাট কামাখ্যা মন্দির। শালস্তম্ভ (সপ্তম শতাব্দী) এবং আহোম যুগে নির্মিত এই মন্দিরটি দেবী কামাখ্যা ও দুর্গাকে উৎসর্গীকৃত একটি বিশিষ্ট ধর্মীয় স্থান। পাশেই কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান থাকায় এলাকায় প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বন্যপ্রাণী। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত দেখা যায়।