অসমে চাষীদের দুর্দশা চরমে, উৎপাদিত টমাটো ফেলে দিচ্ছে কৃষকরা!

8

নিউজ ডেস্ক: অসমে টমাটো চাষীদের দুর্দশা চরমে। বহু কষ্টে, ঋণ নিয়ে চাষবাস করে এখন উৎপাদিত ফসল বিক্রির সুযোগ নেই। ১ টাকা কেজি দরেও টমাটো কেনার ক্রেতা নেই। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো বোকাখাতের কাছে দেবীথানে কুইন্টাল কুইন্টাল টমাটো ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা।

রাজধানী সহ বিভিন্ন খুচরো বাজারে টমাটোর দাম আকাশছোঁয়া। বিভিন্ন বাজারে টমাটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কিলো দরে। অথচ, গ্রামাঞ্চলে টমাটোর দাম তলানিতে ঠেকেছে। বাজারে উপযুক্ত ক্রেতা নেই। উৎপাদিত ফসল নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে কৃষকরা। কয়েক মাসের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম এবং প্রচুর টাকা ঋণ নিয়ে অনেকেই একটু লাভের আশায় টমাটোর চাষ করেছিলেন। এখন ফসল উঠতেই মাথায় বজ্রাঘাত।

খুচরো বাজারে টমাটোর এমন চড়া দাম। কমপক্ষে ৫০ টাকা কিলোর চেয়ে টমাটো কেনার কথা ভাবাই যাচ্ছে না। অথচ, যারা সেই টমাটো উৎপাদন করেছে তারা দাম পাচ্ছে না। টমাটো সংরক্ষণ করা যায় না। পাকা টমাটো দ্রুত পচনশীল সবজি। ফলে, উপযুক্ত দামের জন্য অপেক্ষা করা অর্থহীন। এই অবস্থায় কৃষকদের অসহায় অবস্থা। ১ টাকা কিলো দরেও বিক্রি হচ্ছে না টমাটো। বাধ্য হয়েই নিজেদের উৎপাদিত টমাটো নিজে হাতে ফেলে দিতে হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু কেন এই অবস্থা। কৃষি বিপণন দফতর থাকলেও বাস্তবে রাজ্যে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই। আর, তারই ফলে, কৃষকদের এই দুর্দশা। প্রশ্ন উঠেছে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা নিয়েই।

গোলাঘাট জেলার বোকাখাত বিধানসভা কেন্দ্রের দেবীথান নাক-কাটি অঞ্চলের টমাটো উৎপাদকরা ভয়ানক লোকসানের মুখে। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ ওঠা তো দূরের কথা, জমি থেকে টমাটো বাজারে নিয়ে যাওয়ার ভাড়াও উঠছে না। উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মধ্যস্বত্বভোগী দালাল।