নিউজ ডেস্ক: ১০ মাসে ১৪ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এং বিবেক জোশী। কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশিকা নিয়ে এক দিনেই চারবার আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিতর্কের মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনও। কমিশনের তরফে এক বিবৃতিতে বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিশনের এই ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামছে না। কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী তথা রাজ্যসভা সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, তিনজন নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দুজন আপত্তি জানালে তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই বিপক্ষে। তারপরও বিভিন্ন অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এখনই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে নিজের পুরনো ভিডিয়ো পোস্ট করে লেখেন, ভোটচুরি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ। এটা সংবিধানের ওপরও আক্রমণ। বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন, যারা এসবের উদ্যোক্তা, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের পরিষ্কার বলে দিতে চাই যে, আপনারা যা করেছেন, ভুল করেছেন। এটা বিশ্বাসঘাতকতা, দেশদ্রোহিতা। সময় চলে এসেছে। আমরা আপনাদের ধরবই। রক্ষা পাবেন না।
আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি সম্প্রতি হওয়া সমস্ত নির্বাচন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এখনই বরখাস্ত করা উচিত। একই সঙ্গে আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হওয়া দরকার। একটি রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কি এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবে?