উচ্ছেদ আইনের অপব্যবহার করছে সরকার! অসম সরকারকে তিরস্কার আদালতের

59

নিউজ ডেস্ক: গোয়ালপাড়ায় কৃষিজমিতে অবস্থিত ২১টি বাড়ি ভাঙার জন্য অসম সরকারকে তিরস্কার করল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। আদালতের মন্তব্য, উচ্ছেদ আইনের অপব্যবহার করছে অসম সরকার।
বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিত গুয়াহাটি হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, চলতি মাসের শুরুর দিকে গোয়ালপাড়া জেলায় ব্যক্তিগত কৃষিজমির ওপর অবস্থিত ২১টি বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অসম প্রশাসন আপাতদৃষ্টিতে আইনের অপব্যবহার করেছে বলে মনে হচ্ছে।
যাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছিল, এমন ২১ জন বাসিন্দার একটি আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি দেবাশিস বরুয়ার মন্তব্য, ব্যক্তিগত জমিতে থাকা বাড়িঘর ভেঙে ফেলার মতো এমন কোনও ‘কঠোর পদক্ষেপ’ গ্রহণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার মতো কোনও আসন্ন বিপদ সেখানে ছিল বলে মনে হয়নি।
এর আগে, ১১ সেপ্টেম্বর, আদালত মন্তব্য করেছিল, বরং, আপাতদৃষ্টিতে এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৫-এর অপব্যবহার বলেও মনে হচ্ছে।
আদালত গোয়ালপাড়ার জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারকে উচ্ছেদের বিষয়ে হলফনামা পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি আবেদনকারীদের অতিরিক্ত হলফনামাও গ্রহণ করেছে, এতে উচ্ছেদ অভিযানের ছবি এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, জেলাশাসক ও সার্কেল অফিসারের পরিচালিত উচ্ছেদ শেষ পর্যন্ত আইনত অননুমোদিত বলে প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গুয়াহাটি হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর।

২৪ ঘণ্টার নোটিশে ভাঙা হয়েছে বাড়িঘর
এই মামলা গোয়ালপাড়ার মাটিয়া এলাকায় ২১টি বাড়ি ভেঙে ফেলার বিষয়ে। গত ৫ সেপ্টেম্বর, মাটিয়ার সার্কেল অফিসার বাড়িগুলোর মালিকদের নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেন তারা নিজেরাই বাড়িগুলো ভেঙে ফেলে, অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এরপর ৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ওই ২১ জন আবেদনকারীর বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়, যারা সকলেই মুসলিম।
বাড়িঘর ভাঙার দিনই দেওয়া এক আদেশে হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল যে, সার্কেল অফিসারের এই পদক্ষেপটি আপাতদৃষ্টিতে “বেআইনি, অননুমোদিত এবং স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী” বলে মনে হচ্ছে।
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আগে ন্যায্য সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
আদালত এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়ে কীভাবে এ ধরনের নোটিস জারি করা যেতে পারে।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, নোটিসে এমন কোনও আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত ছিল না যা ব্যক্তিগত জমিতে থাকা বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো কঠোর ক্ষমতা প্রয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারে।

অসমের কৃষিজমি আইনের উল্লেখ আদালতের
হাইকোর্ট আসাম এগ্রিকালচারাল ল্যান্ড অ্যাক্ট, ২০১৫-এর কথাও উল্লেখ করেছে।
আদালত যে নিয়মের কথা উল্লেখ করেছে, তার অধীনে মালিকের নিজের বাসগৃহ নির্মাণের জন্য যদি এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমি ব্যবহার বা হস্তান্তর করা হয়, তবে ডেপুটি কমিশনারের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল যে, নির্মাণটি যেন দোতলার বেশি উঁচু না হয়।
আদালত জানিয়েছে, সার্কেল অফিসারের নোটিসেই ইঙ্গিত ছিল যে, সংশ্লিষ্ট জমির টুকরোগুলো আবেদনকারীদের মালিকানাধীন পাট্টা জমি।