ভোটচুরি, সরকার চুরির পর প্রতীক চুরি , মমতার পাশে রাহুল গান্ধী

30


নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই পরিস্থিতিতে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মমতার পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি সহ দেশের সব বিরোধী দল।
সমাজমাধ্যমে রাহুল লিখেছেন, প্রথমে শিবসেনা, তারপর এনসিপি এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেস, প্রতিবারই একই ঘটনা ঘটছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন জোট বেঁধে কোনও দলকে ভাঙছে এবং এরপর তাদের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
উপনির্বাচনে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী উভয় গোষ্ঠীকেই তিনটি করে নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের (যা অন্য কোনও দল ব্যবহার করছে না) প্রস্তাব দিতে হবে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা উল্লেখ করেন যে, যদি একটি আস্ত দলকেই চুরি করে নেওয়া সম্ভব হয়, তবে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র ভোট চুরি হওয়াটাও খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়।
রাহুলের অভিযোগ, জনগণের রায় রক্ষা করার সাংবিধানিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সেই সব শক্তিরই সহায়তা করছে যারা জনমতকে নস্যাৎ করে দেয়। রাহুলের মতে, ভোট চুরি। সরকার চুরি। আর এখন দল চুরি— এসবই আমাদের গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এই লড়াই কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকামী প্রতিটি ভোটারের লড়াই, বলেছেন রাহুল গান্ধী।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়া ‘মধ্যরাতের জন্মদিনের উপহার’ বলে অভিহিত করেছিল।
অন্তর্বর্তী আদেশে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নথিবদ্ধ সব তথ্য বিবেচনা করার পর কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী রয়েছে, একটির নেতৃত্বে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যটির নেতৃত্বে অরূপ রায়। কমিশন আরও জানায়, উভয় গোষ্ঠীই এখন নিজেদের মূল দল বলে দাবি করছে, তাই নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮-র ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সেই অনুযায়ী, কমিশন জানিয়েছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী উভয় গোষ্ঠীকে সমান অবস্থানে রাখা এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করার লক্ষ্যে, পাশাপাশি অতীতের নজির অনুসরণ করে, বর্তমান উপনির্বাচনের প্রয়োজন মেটাতে এবং এই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কার্যকর থাকবে।
অরূপ রায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এই দুই গোষ্ঠীর কাউকেই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
কমিশনের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার রাতেই মমতার পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল বিজেপি এবং কমিশনকে কটাক্ষ করে লেখেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক ফ্রিজ আসলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তরফে মোদীজিকে দেওয়া জন্মদিনের উপহার। এরপর বলেন, “নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করল যে, এরা বিজেপির হাতের পুতুল ছাড়া আর কিছু নয়। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল বলেছেন, জন্মদিনে দেশবাসীকে মোদীজির উপহার। এভাবে তারা নির্বাচনে জিতবে?