রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিরাপত্তায় কোনও আপস নয়, রাজ্য নিরাপত্তা দিতে না পারলে হস্তক্ষেপ করবে হাইকোর্ট
পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:যাদবপুর-সহ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপোস করা হবে না ৷ রাজ্য প্রশাসন সুরক্ষা দিতে না পারলে, আদালত পদক্ষেপ করবে। সাফ জানাল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বহিরাগত ঠেকাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল গত সপ্তাহে।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “এটা এমন একটা বিষয়, যেখানে কোনও পক্ষ আপত্তি করতে পারে বলে মনে করি না ৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের মতো ইস্যুতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ৷ রাজ্যের কাজ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়া ৷ সেটা নিশ্চিত করতে হবে ৷ সেখানে কোনও আপত্তি থাকতে পারে না ৷ রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয় যদি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা পদক্ষেপ করতে বাধ্য হব ৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ৷ কোনওভাবে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে দেওয়া যাবে না ৷”
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, আইনজীবী সৌম্য দাশগুপ্ত আদালতে জানান, এই জনস্বার্থ মামলায় পশ্চিমবঙ্গ-জুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সাধারণ কিছু প্রতিকার চাওয়া হয়েছে ৷ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বক্তব্য জানিয়েছে ৷
প্রধান বিচারপতি বলেন, “অত্যন্ত গুরুতর বিষয় ৷ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি এর সঙ্গে জড়িত ৷ আমরা চাই না যে কোনও পক্ষ এর বিরোধিতা করুক”
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের দ্বারা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় ৷ কারণ, এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা আগেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বিচারাধীন ছিল ৷ কলকাতা হাইকোর্ট আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছিল ৷ তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অশান্তির ঘটনা ঘটছে অবাধে ৷ সে নিয়েই আইনজীবী ফের শুনানির আর্জি জানান ৷
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য সরকার হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানায় ৷ কিন্তু এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কী বক্তব্য, তা পাল্টা হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩০ শে সেপ্টেম্বর এর মধ্যে ৷ ৫ অক্টোবর এই মামলার শুনানি ৷