বন্যার প্রকোপ হ্রাস হলেও এখনও বিপাকে ৬ জেলা

36

নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যা পরিস্থিতি সামান্য কমলেও এখনও বিপাকে ছয়টি জেলার বাসিন্দারা। দক্ষিণ ধনসিড়ি নদীর জল এখনও বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। বন্যাক্রান্ত ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাড়ে চার লক্ষ বাসিন্দা। এখনও বিপাকে শিবসাগর, গোলাঘাট, চরাইদেও, যোরহাট, নগাঁও এবং কামরূপ (মেট্রো) জেলা। বন্যার জল শুধু রাস্তার ক্ষতি করেনি, জল ঢুকেছে বাড়িতে, কৃষিজমিতে। তবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় বন্যার জেরে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।


অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ২১টি রাজস্ব চক্রের ৬৩১ গ্রাম জলের তলায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও জেলা, ক্ষতিগ্রস্ত ১.৮৮ লক্ষ বাসিন্দা। এরপরই শিবসাগর জেলা, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দার সংখ্যা ১.৪৪ লক্ষ। এখনও অসমের ৩৭ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় রয়েছে। আড়াই লক্ষ গৃহপালিত পশু ক্ষতিগ্রস্ত আর বন্যার জলের তোড়ে ভেসে গেছে ২৬ হাজার গৃহপালিত জীবজন্তু।


প্রধান নদীগুলির মধ্যে নুমলিগড়ে ধনসিড়ি নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। সরকার ও প্রশাসন বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধার এবং ত্রাণবণ্টনে কোনও চেষ্টার খামতি রাখছে না। ১৮৪টি আশ্রয় শিবির ও বণ্টন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঘরহারা প্রায় ২৯ হাজার মানুষ আছে আশ্রয় শিবিরে। দুর্গতদের উদ্ধারে কাজে লাগানো হয়েছে ৬৭টি নৌকা


যোরহাট, শিবসাগর ও যোরহাটে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে রাস্তার, কোথাও জল বইছে রাস্তার ওপর দিয়ে আবার কোথাও জলের তোড়ে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। ১৭১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে গেছে আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৪৬৬৭ বাড়ির। শিবসাগর ও যোরহাটে সরকারি ভবনের ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত।


গুয়াহাটির চান্দমারি এলাকায় বিভিন্ন রাস্তায় এক কোমর জল, অনেক বাড়ি জলমগ্ন। তবে গুয়াহাটিতে কেউ আশ্রয় শিবিরে যায়নি।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে তাঁর দল বিজেপির ৫০ লক্ষ কর্মী বন্যাত্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বন্যাত্রাণে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের থেকে।