‘মা’কে আম্মা, আকাশ’কে আসমান’, আগের সরকার ভাষা বিকৃত করত, পরিকল্পনা করে শিক্ষা ব্যবস্থায় বদল: শুভেন্দু

54

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: পূর্বতন সরকারে বিরুদ্ধে ফের তোপ ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্প করে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছি। এমনকী বাংলা মাধ্যমের সিলেবাসে বেশ কিছু শব্দ বদল করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একটা সময়ে বামেরা বাংলার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছে। তৃণমূল যে শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছিল, তাতে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেম হারিয়ে যেতে বসেছিল।”

আজ, গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তৃণমূল আমলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এক হাত নিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সিলেবাস সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা কে আম্মা, আকাশ কে আসমান… প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি করা হয়েছিল। এমনভাবে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছিল, যে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বিদ্যাসাগর বা বিবেকানন্দ ভাবেনি। শিশুমনে বিভাজন ঘটানো হয়েছিল।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুসলিম ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। বাকি ধর্মের ছাত্রদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হত। টাটাদের ইতিহাস ছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা ছিল, অথচ শ্যামাপ্রসাদের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস ছিল না।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “সঠিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে আমরা বেঁচে গিয়েছি। বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও তফাৎ থাকত না। ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করেছে।”

তিনি বলেন, “এনসিসি- কে ব্যান করেছিল তৃণমূল সরকার। কমিউনিষ্টদের আমলে বাংলা-ইংরাজি শিক্ষার বিস্তারে তালাচাবি পড়েছিল। আর তৃণমূলের শেষ ১০ বছরের শিক্ষার হাল বেহাল হয়ে গিয়েছিল”।

কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের স্লোগান সমাজে সহ্য করা উচিত কি না। তাঁর দাবি, দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে হবে।

‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। বিদ্যা ভারতীর মতো সংগঠনগুলিকে সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর বক্তব্য, আর কিছুদিন এই ধারা চললে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিপন্ন হয়ে পড়ত। তাই সঠিক সময়ে পরিবর্তন ও সংস্কার জরুরি ছিল।