মেলেনি দেহ, নেপালে কুশপুতুলেই সৎকার নিখোঁজের আত্মীয়দের

52

নিউজ ডেস্ক: ৮ দিন কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ। স্বজনহারাদের কান্নার রোল এখন নেপালের আকাশে-বাতাসে।হড়পা বান সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার আশাও ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে।গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট নেই বললেই চলে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রথাগতভাবে শ্রাদ্ধ বা শোক পালনের মতো জায়গাও নেই নেপালের দুর্যোগ-পীড়িত এলাকায়।

এই পরিস্থিতিতে ধর্মীয় প্রথা মেনে নিখোঁজ স্বজনদের উদ্দেশে ‘কুশের পুতুল’ বানিয়ে প্রতীকী শেষকৃত্য করতে বাধ্য হচ্ছে শতাধিক পরিবার। হড়পা বানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার পাহাড়েবেসি গ্রাম। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে, তারা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু করছেন।

এদিকে, হিন্দু ধর্মমতে শোক পালনের ১৩ দিনের প্রথাগত নিয়ম সম্পন্ন করার জন্য পুরোহিত পাওয়া যাচ্ছে না। স্থান ও সুবিধার অভাবে গ্রামের মানুষ শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধকর্মের জন্য পাড়ি দিয়েছেন কাঠমান্ডু।

রাজধানী কাঠমান্ডু এসেও বিপাকে পড়েছে বহু পরিবার। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শ্রাদ্ধের ১৩ দিন স্বজনদের বিশেষ আশ্রমে থাকতে হয়। কিন্তু, বাস্তুচ্যুত মানুষগুলির জন্য বর্তমানে কাঠমান্ডু শহরে কোনও আশ্রয়কেন্দ্র খালি নেই। এদিকে, বাজারে দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের চরম সংকট। তাই শোকপালনকারীদের জন্য খাবার তৈরির কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পচা-গলা দেহ শনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। সময় যত গড়াচ্ছে দেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়ায় জটিলতাও বাড়ছে। একাংশের অভিযোগ, অনেক দেহ তড়িঘড়ি করে গণকবর দেওয়া হয়েছে। পুঁতে ফেলা হচ্ছে পচা-গলা দেহ। যার ফলে প্রতীকী শেষকৃত্য ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকছে না পরিবারের সদস্যদের কাছে।

হিসাব অনুযায়ী, নেপালে ৭,০০০-এরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। কাদা-মাটির স্তূপে চাপা পড়ে গেছে ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রাম। আর যেটা আছে সেগুলিও বসবাসের যোগ্য নয়। উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজারের বেশি মানুষ।