অসমে বন্যায় মৃত ১০৭

20

নিউজ ডেস্ক: অসমে ভয়ংকর বন্যার প্রাথমিক ধাক্কা শেষ হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭-এ। এখনও অন্তত ১০ জেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বন্যার জল।
অসমের ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফর্মেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিআরআইএমএস)-এর শেষ বিবৃতি অনুযায়ী ১০ জেলার ২৮ রাজস্ব চক্রের ৪৫৬ গ্রামে এখনও বন্যার জল রয়েছে।
গোলাঘাট, শিবসাগর, হোজাই, দরং, লখিমপুর, যোরহাট, কার্বি আংলং, চরাইদেও, নগাঁও এবং বিশ্বনাথ জেলার বিভিন্ন এলাকা এখনও সমস্যাদীর্ণ। এই কয়টি জেলার ১,৩৭,৫৯০ বাসিন্দা বন্যাক্রান্ত। প্রায় ১২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়, জানিয়েছে ডিআরআইএমএস।
বন্যার্তদের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট, ৬৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এর পরেই রয়েছে শিবসাগর, ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৩৯ হাজার এবং তারপর যোরহাট, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ হাজার মানুষ।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী গোলাঘাট ও নুমলিগড়ে ধনসিড়ি নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপরে। শ্রীভূমি জেলার কুশিয়ারার জলও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। তবে অসমের অন্য কোনও নদীর ব্যাপক জলস্ফীতি এই মুহূর্তে নেই।
গ্রামের পর গ্রাম জলের তলায় চলে যাওয়ায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়েছেন ঘর ছাড়তে। ১২৫ ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বণ্টন কেন্দ্র এখনও কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ আশ্রয় শিবির এবং ৭৩ বণ্টন কেন্দ্র। বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে এখনও রয়েছে প্রায় আট হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ৩৫৯২ পুরুষ এবং ৩৪৩৭ মহিলা ও ৯১৯ শিশু।
শিবসাগর জেলার অধিকাংশ এলাকার বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় ৩৯ হাজার মানুষ এবং এই জেলায় ২২৭৭ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। জেলায় চলছে ১৯টি আশ্রয় শিবির, সেখানে রয়েছেন ৪৬৪৯ বন্যাক্রান্ত।
গোলাঘাট জেলায় এখন বন্যার্তর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার। এই জেলায় দুহাজার হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়। জেলায় চলছে ৮২ আশ্রয় শিবির ও ত্রাণবণ্টন কেন্দ্র। বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন ১৮৭৬ বন্যাক্রান্ত।
বন্যাক্রান্ত এলাকায় কাজ করছে ৫৯ মেডিক্য়াল টিম। শুধু যোরহাটেই ১০৭ বন্যাক্রান্তকে গত ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে শুধু শিবসাগরেই ৫১৬ বাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে ১৭৬ বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত আর ৩৪০ বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত।