নদীবাঁধ ভেঙে কাটিগড়ায় হাহাকার

9

১৪ মে, শিলচর: নদীবাঁধ ভেঙে হাহাকার বরাকের কাটিগড়ায়। এক নিমেষে ভেঙে পড়ল ১৭.৫ কোটি টাকার বাঁধ। গোবিন্দপুরে নদীর বুকে তলিয়ে গেল বাঁধের বিরাট অংশ। জলসম্পদ বিভাগের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ। যে কোনও মুহূর্তে বন্যায় ভেসে যেতে পারে গোটা এলাকা।


কাছাড়ের গোবিন্দপুরে গনিরগ্রাম-কাটিগড়া বাঁধের একটা বিরাট অংশ নদীর বুকে তলিয়ে গেল। জলসম্পদ বিভাগের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ। বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় গ্রামবাসীদের। মাস তিনেক আগেই বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গেই বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয় বিষয়টি। এক সপ্তাহ আগে বাঁধ মেরামতির চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, তাতে কোনও লাভ হয়নি। বর্ষার প্রথম ধাক্কাতেই ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেল বাঁধ। ২০২৩ এর ৪ ফেব্রুয়ারি ১৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এই বাঁধ। বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিল মেসার্স ধসানিয়া অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্মাণকাজ চলাকালীনই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বাঁধ নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। সে অনুযায়ী জলসম্পদ বিভাগে অভিযোগও করা হয়েছিল। কিন্তু এই বাঁধের নির্মাণ এবং নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে কোনও গুরুত্ব দেয়নি জলসম্পদ বিভাগ। এমনকী ফাটল দেখা দেওয়ার পরও কোনও হেলদোল নেই বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের। বাঁধের বিশাল ফাটল নিয়ে আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। যে কোনও মুহূর্তে বন্যায় ভেসে যেতে পারে গোটা এলাকা। আতঙ্কে রাতের ঘুম উবেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। আর তাই প্রশাসনের পরোয়া না করে নিজেরাই নদীতে নেমে বাঁধ সংস্কারের কাজে লেগে পড়েছেন স্থানীয় জনগণ। যাতে করে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করা যেতে পারে নিজেদের ভিটেমাটি। গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।


উল্লেখ্য, বাঁধ ভাঙলে বন্যার কবলে পড়তে পারেন গনিরগ্রাম-কাটিগড়ার প্রায় ৫ হাজার পরিবার। এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বর্ষার এই মরশুমে আশঙ্কায় প্রতিটি রাত কাটছে বৃহত্তর গনিরগ্রাম-কাটিগড়ার বাসিন্দাদের।