মমতার সওয়াল করা মামলায় পুলিশকে গুচ্ছ নির্দেশ হাইকোর্টের

33

১৪, মে, ২০২৬, কলকাতা : সকালে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়ে ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেলেই সেই মামলায় পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। পুলিশকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ, ‘ইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে কোনও ব্যক্তির বাড়ি বা তাঁর জমি বা তাঁর দোকান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে, সেই জায়গা তা পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা পুলিশকেই করতে হবে।’ এছাড়াও সব পক্ষের হলফনামা একই সময়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীর পোশাকেই হাইকোর্টে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুত্রের শীর্ষণ্যের করা মামলায় আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনও বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ঘর, বাড়ি লুঠ করছে, আগুন জালাচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলি অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করব।’

অন্য দিকে পুলিশের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী পাল্টা সওয়াল করেন, ‘ওই সব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কী ঘটেছে, নির্দিষ্ট করে তথ্য দিয়ে বলা হচ্ছে না কোথায়। রাজ্যের পুলিশ সতর্ক এবং সক্রিয়। বলা হচ্ছে, রাজ্যজুড়ে ২ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এই সব অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কে, কখন অভিযোগ করেন বিস্তারিত কিছুই বলা হচ্ছে না।’

ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, ‘২০২১ সালে ভোট পরবর্তী অশান্তি খুঁজতে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ বসে ছিল। এখানে আগে আদালত খুঁজে তো দেখুক, আদৌ ভোট পরবর্তী অশান্তির ঘটনা কি না। এখনই অন্তর্বতী নির্দেশ কেন দেবে আদালত?’

এরপরই মামলায় নির্দেশ সংরক্ষিত রাখে আদালত। বিকলে নির্দেশে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ‘২০২১- এর ভোট পরবর্তী অশান্তি মামলায় যে বিশেষ পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ ছিল, সেই বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে কিনা তা সব পক্ষের হলফনামা জমা পড়ার পর বিবেচনা করবে আদালত।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতের পোশাকে দেখে শোরগোল পড়ে যায় আইনজীবী মহলে। বিভিন্ন মহলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হাজির হন সাংবাদিকরা। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টে মামলায় সওয়াল নিয়ে আমল দিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আমার এখন অনেক কাজ এইসবের উত্তর দেওয়ার সময় নেই।’

তবে আদালত থেকে বেরোতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোর স্লোগান দেন কয়েকজন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘বিজেপির আইনজীবীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থা করেছে। আমারও বেরিয়ে আসতে অসুবিধা হয়েছে। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর এজেন্ট আইনজীবী সূর্যনীল দাস যাচ্ছেতাই গালাগাল দিচ্ছেন।’ শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছেন। মাছটাকে যদি ঢেকেও ফেলেন, শাকটা ঢাকবেন কী করে? ২০২১ সালের ২মের ঠিক পরে ২৭ দিনে ৫৬জন বিজেপি কর্মী খুন। ২৭জন বিজেপির মহিলা কর্মীরা প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে বলছেন, আমরা তৃণমূলের দ্বারা গণধর্ষিতা। জেসিপি দিয়ে বাড়ি ভাঙা, অবর্ণনীয় অত্যাচার। তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কোথায় ছিল কোর্ট? কারণ তখন শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা, তাঁকে দেখলে চোর চোর স্লোগান দেবে, এ কাজ বিজেপি করে না। এ পরিস্থিতি যদি তৈরি হয়ে থাকে, তা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।’

বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর একাধিক জায়গায় অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গেরুয়া পতাকা হাতে যদি কেউ হামলা করে, তবে তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীও বারবার অশান্তি ঠেকাতে বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু সরাসরি আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে নেত্রীর হাইকোর্টে উপস্থিতির ছবি পোস্ট করেছে তৃণমূল।