শপথের পর তাপস-সজলদের তৃণমূল ‘বিয়োগের’ কথা স্মরণ কুণালের

47

১৪ মে, কলকাতা : ‘তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাপসদাকে ভালো বলায় আমাকে দল সাসপেন্ড করেছিল। ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র। সজল পুরপিতাও বটে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক।’

বিধানসভায় শপথ-পর্বের মধ্য়েই তৃণমূলের বাঁধা সুর কেটে দিলেন বেলেঘাটা থেকে নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় শপথ নেন কুণাল ঘোষ। শপথের পরই অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরোতেই বিধানসভার লবিতে দেখা হয় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিতে তো গেলে…’ সৌজন্য বিনিময় করেন কুণাল ঘোষও।

আর এরপরই সমাজমাধ্যমে কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট। শুধু তাই নয়, উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের কার্যত নিশানা করলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে কুণাল লিখেছেন, ‘যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একই রকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের। এভাবে চললে কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার লড়াইতে আত্মবিশ্লেষণটাও জরুরি।’

ভোটে ভরাডুবির পর উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন দলেরই একাংশ। সুদীপ ঘণিষ্ঠ ও সুদীপ বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ দেখা যায়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দি প্রবাদ তুলে বিরোধী-গোষ্ঠীকে ‘কুত্তা’ বলে নিশানা করেন স্বয়ং তৃণমূল সাংসদ ও উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে দলের অন্দরে জলঘোলা কম হয়নি। আর এরপরই বিধায়ক পদে শপথ নিয়েই নাম না করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দেরই নিশানা করলেন কুণাল ঘোষ।

তাপস রায়-সজল ঘোষদের প্রশংসা করে নেতৃত্বের একাংশকে কুণালের নিশানাকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তাপস রায়। তাঁর মন্তব্য, ‘কোনও বিশ্লেষণেই তৃণমূলের কিছু হবে না। যেটা হওয়ার সেটা হয়ে গেছে।একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের লোক। তার কিছু কিছু কারণ ছিল। কারণে যাচ্ছি না। অন্যদিকে অভিষেকের পছন্দের লোক। দুটো উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু। অরাজনৈতিক, ধান্দাবাজ, স্বার্থপর লোকেদের বৈভব, অর্থ, রোজগারের বন্দোবস্ত করা, অর্থ তোলা।কাটমানি শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র কাটমানি নীচের স্তরে ছিল না, উপররে স্তরেও কাটমানি দেওয়া-নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কাটমানি নেওয়া দলের যা হওয়ার, তাই হয়েছে।’ একই সঙ্গে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছেন তিনি।

তৃণমূলে যে তাঁদের রাখার চেষ্টা করেছিলেন কুণাল, সে কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন সজল ঘোষ। তবে কটাক্ষ করতেও ছাড়ছেন না, ‘একই সঙ্গে কটাক্ষ করেছেন কুণালকে। উনি কাউকে খুশি করতে চাইছেন, আত্মশুদ্ধি করতে চাইছেন, নাকি বোঝাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমি এমএলএ নও, আমি এমএলএ। কখন কী চান, তা ভগবানও বলতে পারবেন না। উনি রাখার চেষ্টা করেছিলেন। ওঁর তরফেই একমাত্র রাখার চেষ্টা হয়েছিল। দলের মালিকানা ওঁর ছিল না। রাখার জন্য একজন রাজনৈতিক কর্মীর যা প্রয়োজন, তা দল দেখেনি। আর কপাল ভাল, আজকে বিধানসভায় ঘুরছি, চোর শুনতে হচ্ছে না। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনলে আজকে চোর শুনতে হতো।’

তবে শপথের পর কুণাল ঘোষের পোস্ট যে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে দিল, সে কথা মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।