১৫ মে ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব শেষ। শুক্রবারই অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। আজ স্পিকার নির্বাচন। ইতিমধ্যেই স্পিকার পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে স্পিকার মনোনীত করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পরই নতুন স্পিকার কে হবেন তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটে। স্পিকার পদের জন্য কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর মনোনয়নের পাল্টা কোনও মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি। তাই মনে করা হচ্ছে, আজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনিই স্পিকার নির্বাচিত হবেন। প্রথা অনুযায়ী, শাসকদলের সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার কথা বিরোধী দল তৃণমূলের। কিন্তু বিরোধীরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বমসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হলে আজই রাজ্যপালের কাছ থেকে শপথ নিতে পারেন রথীন্দ্র বসু। রথীন্দ্র বসু জানিয়েছেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তিনি তা ১০০ শতাংশ পালনের চেষ্টা করবেন।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী রথীন্দ্র বসু কোচবিহারের বিটি অ্যান্ড ইভিনিং কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক হন। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউট্যান্ট রথীন্দ্র বসুর নিজের একটি ফার্মও রয়েছে। দীর্ঘদিন আরএসএসের সক্রিয় সদস্য রথীন্দ্র বহু পরে রাজনীতিতে আসেন। বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ২০২৬ সালে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। আর তারপরই একেবারে বিধানসভার অধ্যক্ষের জন্য মনোনীত করল দল।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের আমলে ১৫ বছর বিধানসভার অধ্যক্ষ ছিলেন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দীর্ঘ দিন বাম আমলে স্পিকার ছিলেন হাসিম আব্দুল হালিমও। সাধারণত স্পিকার হিসেবে আইনজ্ঞ বা আইনজীবীকেই মনোনীত করে রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু সেই অলিখিত প্রথা এবার ভাঙতে চলেছে। অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ হতে চলেছেন উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্র বসুই।