১৫ মে ২০২৬, কলকাতা: সোনা পাপ্পু মামলায় রাতেই গ্রেফতার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ। বৃহস্পতিবার রাতে টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন বলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের আধিকারিকদের সূত্রে খবর।
গ্যাংস্টার সোনা পাপ্পু থেকে শুরু করে জমি মাফিয়া, বালি পাচার সহ একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ED। ED সূত্রে দাবি, তোলাবাজি সিন্ডিকেটের মাথা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। জমি দখল ও তোলাবাজিতে একাধিক থানার OC-দের কাজে লাগিয়েছিল শান্তনু। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সেই সব OC-দের ভূমিকা জানতে চান কেন্দ্রীয় এজন্সির তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় কোনও প্রভাবশালী জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে চান আধিকারিকরা। সে জন্যই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চাইবে বলে ED সূত্রে খবর।
ভোটের আগে গত ১৯ এপ্রিল শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফার্ন রোডের দু’টি বাড়িতে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের দল। বাড়িতে সে সময় ছিলেন না শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। শান্তনু সিনহার ছেলের কোচিং সেন্টারেও তল্লাশি চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয় বলে ED সূত্রে দাবি।
টানা পাঁচবার সমন পাঠানো পর গতকাল ED দফতরে হাজিরা দেন কলকাতা পুলিশের ডিরেক্টর সিকিউরিটি কন্ট্রোলের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিজকে বুধবার নোটিস দেওয়ার পর আইনজীবী নিয়ে আসেন কালীঘাট থানার প্রাক্তন OC।
এরপর অন্তত তাঁকে ৫ বার নোটিস পাঠায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। ডেকে পাঠানো হয় তাঁর ছেলেকেও। কিন্তু কোনও ভাবে CGO মুখী হননি সপুত্র শান্তনু। বারবার তাঁর তরফ থেকে জানানো হয়, ভোটের জন্য হাই-প্রোফাইল সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্টে ব্যস্ততার কারণে তিনি হাজির হতে পারবেন না। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিসও জারি করা হয়।
বুধবার ED-র তরফে চিঠি দিয়ে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিজকে জানানো হয়, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এরপরই গতকাল সকাল ১১.০৫ মিনিটে CGO কমপ্লেক্সে ED-র দফতরে হাজির হন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস।