১৫ মে, ২০২৬,কলকাতা : বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই পদে ফের ফিরিয়ে আনা হয়ছে শ্রীরামপুরের আইনজীবী সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এই ঘটনায় এবার ক্ষোভ এবং হতাশা উগরে দিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সমাজ মাধ্যমে পোস্টে তিনি লেখেন ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ সমাজ মাধ্যমে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত ১৯৭৬ সাল থেকেই মমতার সঙ্গে পরিচয় কাকলির। দুজনেই তখন ছাত্র পরিষদে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যোগমায়া দেবী কলেজের ছাত্র পরিষদের নেত্রী তখনই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে একই সংগঠন করেন কাকলি। সেই থেকেই দুজনের পরিচয় এবং পথচলা। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর যাদবপুর থেকে সিপিএমের নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য সাংসদ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পোস্টে সেই কথাও উল্লেখ করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
গত বছর কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্য তরজার জেরে হঠাৎই সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা সেই সময় মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তার আগে কাকলি দীর্ঘদিন লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের মধ্যেকার কোন্দলগুলি ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে গতকালই ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপরও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আজকের পোস্ট তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালো বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।