কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ! জেলাশাসকের কাছে নালিশ কৃষ্ণেন্দুর বিরুদ্ধে

27

সুমিত ঘোষ, মালদহ: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ শিরোনামে উঠে এসেছে। এই অভিযোগ থেকে বাদ পড়লেন না মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ বর্তমানে ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান। ২০২১ সাল থেকে মালদা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। এবার সম্পাদক হিসেবে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল। এদিন জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান প্রাক্তন খেলোয়াড়দের একাংশ।

সংস্থার প্রাক্তন খেলোয়াড় কৌশিক সরকারের অভিযোগ, “সংস্থার জায়গায় বেআইনিভাবে পার্কিং করা হচ্ছে। বেআইনিভাবে হোটেল করা হয়েছে। বেআইনিভাবে দোকান করা হয়েছে। নিজের সম্পত্তি মনে করে সব করা হচ্ছে।” অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, “DS-এর যে সেক্রেটারি আছে, তাঁরই অধীনে সব হচ্ছে।”

অভিযোগ, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ সংস্থার জায়গায় বহু বেআইনি নির্মাণ করে তা নিজের লোকেদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে আপিল করছি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে সেখানে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কি না।”

দুর্নীতির কথা কার্যত স্বীকার করেছেন মালদা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ। চাপে পড়ে তাঁকে বিভিন্ন চেক সই করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, “কিছু দুর্নীতি তো হয়েছে। আমাকে বাধ্য হয়ে চেকে সই করতে হয়েছে। না করলে অনেক অসুবিধা হতে পারে। তাই সই করতে হয়েছে। আমাকে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী চেক পাঠিয়েছিলেন, আমি সই করেছি।”

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, “প্রতি বছরই নিয়ম করে আমরা সমস্ত কিছু করি। আমরা এক্সিকিউটিভ বডির মিটিং ডাকি। স্বার্থান্বেষী লোকেরা DS-টাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি তো চাই যে কোনও তদন্ত হোক। আমরা তৈরি।”

প্রাক্তন খেলোয়াড়দের করা অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করেন জেলাশাসক, এখন সেটাই দেখার।