ধৃত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের আকাশছোঁয়া দুর্নীতি! আদালতে ইডির চমকপ্রদ তথ্য

24

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা : কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবারই ইডির হাতে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। তাঁকে হেফাজতে নিতে শুক্রবার শান্তনুকে আদালতে হাজির করে ইডি। আদালতের শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে নিয়ে ইডির দেওয়া তথ্য চমকে দেওয়ার মতো।

এদিন আদালতে শান্তনুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক তথ্য তুলে ধরে ইডি। আদালতকে ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদি জানান, সোনা পাপ্পুকে দিয়ে থ্রেট কালচার চালাত শান্তনু। মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের ঠিক করা দরে সম্পত্তি বিক্রির কারবার চালাতো। কম দামে জমি বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করা হত। বেআইনি কাজে পুলিশকে ব্যবহার করা হত। কাজ না হলে সোনা পাপ্পুর দুষ্কৃতী দলকে নিয়ে ভয় দেখানো হত। পাড়ায় পাড়ায় তোলাবাজির সিন্ডিকেট চলত। যেখানে কাউন্সিলররা যুক্ত, দুষ্কৃতীরা যুক্ত ছিল। কোথা থেকে বিল্ডিং মেটেরিয়াল কেনা হবে তা ঠিক করে দেওয়া হত। তা না করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দিতে হত। টাকার অঙ্ক কাউন্সিলর ঠিক করতেন। টাকা নেওয়া হতো নগদে। নির্মাণ কাজে যাতে কোনও বাধা না আসে সেজন্য প্রত্যেক থানাকে এককালীন ও মাসে মাসে টাকা পাঠাতে হত। সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে কোনও কাজ করা যাবে না। এটাই নিয়ম ছিল।

আদালতে এদিন ইডি আরও জানিয়েছে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস পুলিশ অফিসারদের ট্রান্সফার সংক্রান্ত একটি চক্র চালাতো। এই ট্রান্সফার বাবদ প্রচুর টাকা তোলা হত। এসবই দুর্নীতির টাকা। শান্তনু সিনহার ছেলের সংস্থায় এই দুর্নীতির টাকা ঢুকেছে। ধৃতের ছেলের অ্যাকাউন্টে এক একবারে ২১ লক্ষ টাকা করেও ঢুকেছে। শান্তনুর ছেলেদের নামে সান কনস্ট্রাকশন সংস্থার দুটি ফ্ল্যাট বুক ছিল। তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে ক্যান্টিন চালাতো। শান্তনুর স্ত্রীর নামে থাকা একটি যৌথ মালিকানাধীন সংস্থা ৫ মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্টিন চালায়। যৌথ মালিকানার ওই সংস্থার মালিক কলকাতা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত। পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে শান্তনু সিনহা তাঁর ছেলেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন পদে নিয়োগ করতে বাধ্য করেছিল। শান্তনুর নামে থাকা একটি সংস্থায় একদিনে আড়াই কোটি টাকা জমা পড়েছিল। কেনা হয়েছিল জমি।

সোনা পাপ্পু মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসের পরই জানা গিয়েছিল, জয় কামদার নামে এক প্রোমোটারের সঙ্গে তাদের যোগ রয়েছে। ওই প্রোমোটারই শান্তনু সিনহার হয়ে রাজ্যের সব ওসিদের নিয়ন্ত্রণ করত। দুর্নীতির টাকায় শান্তনু পরিবারকে প্রায় কোটি টাকার ঘড়ি উপহার দিয়েছিল এই জয় কামদার। ইডির দাবি, ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে সব পুলিশ অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। ওয়াটস অ্যাপ চ্যাট থেকে দেখা যাচ্ছে শান্তনু আর জয় সবসময় নিজেদের মধ্যে কথা বলত কীভাবে আরও টাকা আসবে।

শান্তনু সিনহা বৃহস্পতিবার ইডি দফতরে এলেও নিজের মোবাইল নিয়ে আসেননি। ইডি বলার পরেও মোবাইল জমা দেননি। আদালতের ইডির দাবি, মোবাইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও চ্যাট লুকিয়ে আছে।

যদিও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের আইনজীবী সাবির আহমেদ ইডির সব অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন। আদলতকে তিনি বলেন, ইডি গল্প শোনাচ্ছে। আদালতে গল্প না, প্রমাণ চলে। এমনকি সোনা পাপ্পুকে তাঁর মক্কেল চেনেন না বলেই এদিন আদালতের দাবি করেছেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের আইনজীবী। তবে জয় কামদারের থেকে পাওয়া কিছু উপহারের কথা স্বীকার করলেও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দাবি, এই উপহারের সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই।