
স্পোর্টস ডেস্ক, এনকেটিভি বাংলাঃ ফাইনালে এসেও চমক। সেই স্বরূপমের হাত ধরেই নুরুদ্দিন ট্রফি ফাইনালে আরও একবার ঘুরে দাঁড়াল রেল। ঘুরে দাঁড়াল না শুধু, স্বরূপমের দুর্ধর্ষ শতরানে রবিবার দ্বিতীয়দিনের শেষে চালকের আ সনে ছিল রেল। আর তৃতীয়দিন?
চারদিনের ফাইনালের তৃতীয়দিন সোমবার বল হাতে একাই পাঁচটি উইকেট তুলে নেন স্বরূপম। স্বরূপমের দুরন্ত স্পেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৪ রানে ফুরিয়ে যায় গুয়াহাটি। প্রথম ইনিংসে লিড ছিল ৩৬ রানের লিড ছিল রেলের। জয়ের জন্য তাই রেলের চাই আর মাত্র ১৫৯ রান।
গুয়াহাটির ২১৩ তাড়া করতে নেমে রেল যখন চাপ, অনন্ত চাপের মুখে, তখন ১৪৩ রানের রাজকীয় এক ইনিংস খেলেন স্বরূপম। ২২৮ বলের সেই ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও তিনটি বিশাল ছক্কা। দ্বিতীয়দিনের শেষে রবিবার দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ১১ রানে ছিল গুয়াহাটি।
বর্ষাপাড়ায় রবিবার মাত্র ৮ রানের মাথায় চারটি উইকেট হারায় রেল। এরপরই দলের হাল ধরেন স্বরূপম এবং শিবশংকর রায়। পঞ্চম উইকেটে ৯৪ রান যোগ করে রেলকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনেন স্বরূপম-শিবশংকর (৩৭)। লোয়ার অর্ডারে অভিলাষ গগৈ (৩৪) এবং পারভেজ আজিজ (২১) কিছুটা লড়লেও একা একপ্রান্ত আগলে বড় শট নিতে হয়েছে সেই স্বরূপমকেই।
পাঁচ রেলওয়ে ব্যাটার খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। তবু লিড পেয়ে যায় দল। এই পরিসংখ্যানেই এটা স্পষ্ট যে দ্বিতীয়দিনের লড়াইটা পুরোপুরি ছিল স্বরূপম বনাম গুয়াহাটির। গুয়াহাটি অধিনায়ক কুণাল শর্মা তিনটি এবং আকাশ সেনগুপ্ত ও রোহিত সিং দুটি করে উইকেট পেলেও স্বরূপমকে আটকাতে পারেননি। নুরুদ্দিনে চলতি মরশুমে দ্বিতীয় শতরান ছিল এটা স্বরূপমের। এর আগে বিশ্বনাথের বিরুদ্ধেও সেই চাপের মুখে দুরন্ত শতরান করেছিলেন তিনি।
রবিবারের সেই ইনিংসের পর ৩৮৬ রান করে নুরুদ্দিনে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারীর তালিকায়ও প্রথম স্থানে পৌঁছে গেলেন স্বরূপম। অর্ধশতক করেন লখিমপুরের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় ইনিংসে। ওই ম্যাচে আটটি উইকেটও তুলেন স্বরূপম। ফাইনালের আগেই তাঁর ঝুলিতে ছিল ২৫টি উইকেট। ফাইনালের ছটি জুড়ে দিলে সর্বাধিক শিকারের তালিকায়ও প্রথম তিনে স্বরূপম। ফাইনালে রেল জিতলে তাই শুধু ম্যাচ নয়, বিনাবিতর্কে টুর্নামেন্ট সেরার শিরোপাও ছিনিয়ে নেবেন স্বরূপম। অসমের বর্ষীয়ান রনজি অলরাউন্ডার স্বরূপম পুরকায়স্থ।