পশু বলি নিয়ে নতুন আইনে বিভ্রান্তি, বকরি ইদের আগে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি নওসাদের

7

দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: আগামী 28 মে বকরি ইদ। সেই ইদ-উল-আধা উপলক্ষে পশু বলি সংক্রান্ত ছাড় ও প্রশাসনিক সহযোগিতার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। পশ্চিমবঙ্গ পশু বলি নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ১২ নম্বর ধারার উল্লেখ করে তিনি আবেদন জানান, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও আইনি ছাড় দেওয়া হোক।

চিঠিতে নওসাদ সিদ্দিকি উল্লেখ করেন, আইনের নির্দিষ্ট ধারায় রাজ্য সরকার বিশেষ ক্ষেত্রে পশু বলির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেই অনুযায়ী, আসন্ন বকরি ইদ উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের আর্জি জানান তিনি।

পাশাপাশি, প্রত্যেক পঞ্চায়েত অফিসে পশু চিকিৎসক নিয়োগ ও ফিটনেস সার্টিফিকেট দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থার দাবিও তোলেন ভাঙড়ের বিধায়ক। তাঁর দাবি, সময় মতো শংসাপত্র না মেলায় গরু ব্যবসায়ী, কৃষক, পরিবহণ কর্মী ও পশু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

নওসাদ সিদ্দিকি চিঠিতে আরও লিখেছেন, এই উদ্যোগে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে, তেমনই হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে পশু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জীবিকা ও আর্থিক স্বার্থও সুরক্ষিত হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিষয়টি মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

এই চিঠিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের একাংশের দাবি, ধর্মীয় উৎসবের সময় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, তবে আইনশৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধিও সমানভাবে বজায় রাখতে হবে।