পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা : রবিবার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট অঞ্চলে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরি হয় ওই অঞ্চলে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হল মূল অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলামকে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রবিবার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টের কাছে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অশান্তি এতটাই বেশি হয় যে, পুলিশকে মারধর করার অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। সমগ্র পার্ক সার্কাস অঞ্চল রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, বেআইনিভাবে রাস্তা অবরোধ করা হয়। বিক্ষোভ হঠাতে গেলে পুলিশের উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। ইটবৃষ্টি, গাড়ি ভাঙচুর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর হামলা চলে। বেশ কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। আর তাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই জওয়ান আহত হন।
সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহত পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেন। সাউথ-ইস্ট ডিভিশনের অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী। মুখমন্ত্রীর কড়া বার্তা, গুন্ডামির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কোনও অসামাজিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে পুরোপুরি ফ্রি হ্যান্ড দেন তিনি। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাস্টারমাইন্ড ফরিদুলকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ফরিদুল ওই অঞ্চলের বাসিন্দা, প্রাথমিকভাবে জেনেছে পুলিশ।
পার্ক সার্কাসের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার গঠনের মাত্র ৮ দিনের মধ্যেই নতুন সরকার যে ‘আইনের শাসন’ চেয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এই ঘটনায় নাগরিকদের কি পুলিশের উপর আস্থা ফিরবে? তা সময়ই বলবে।