আদালতে আপাতত স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

13

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: আদালতে নির্দেশ ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোন কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। ৩১ জুলাই বা তার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

নির্বাচন পর্বে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা সাংসদের বিরুদ্ধের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে এফআইআই দায়ের হয়। সেই এফআইআর খারিজের আবেদন করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় এদিন অভিষেকের এফআইআর খারিজের আবেদন নাকচ হলেও তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে উচ্চ আদালত। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী প্রচার পর্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। দলের শীর্ষ পদে থেকে কেন এধরণের মন্তব্য তিনি করলেন তা জানতে চান বিচারপতি।

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক রক্ষাকবচ দিলেও বেশ কয়েকটি শর্ত তাঁকে মেনে চলতে হবে। আদালতের নির্দেশ, তৃণমূল সাংসদকে তদন্তের জন্য সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। ভার্চুয়াল হাজিরা দিলে হবে না, সশরীরে থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে। তবে ৪৮ ঘন্টা আগে অভিষেককে নোটিস পাঠাতে হবে বলেও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উচ্চ আদালতের অনুমতি ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশ ছাড়তে পারবেন না।

এদিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ ভোটের প্রচারে যে ধরনের কথাবার্তা বলেছেন তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের বক্তব্য আদালত ভালোভাবে দেখছে না যেখানে এই রাজ্যে ভোট ঘিরে হিংসার কালো ইতিহাস রয়েছে।’

বিচারপতি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ‘৪ মে যদি ভোটের ফলাফল অন্যরকম হত তারপরে রাজ্যের চিত্র কী হত? সেটা খুব সহজেই অনুমান করা যায়’।

বিচারপতির এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পালটা দাবি করেন, ‘৪ মে যদি অন্যরকম রেজাল্ট হত তাহলে রাজ্য শান্তিপূর্ণ থাকত’।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জুলাই।