‘দেশ বিরোধী’, ‘পাকিস্তানি’দের সঙ্গে কথা বললেন রাহুল

13

নিউজ ডেস্ক: লোকসভার বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধী এবার কথা বললেন CBSE দ্বাদশ শ্রেণির সেইসব ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশদ্রোহী, পাকিস্তানি এবং সোরোসের দালাল বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে গত কয়েকদিনে।

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে কয়েকদিন হল। এবছর ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের উত্তরপত্রে ভুলত্রুটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এক ছাত্র দাবি করে, সিবিএসই-র আপলোড করা উত্তরপত্রটি তাঁর নয়। এরপরই ব্যাপক শোরগোল পড়ে। অেক জলঘোলার পর সিবিএসই কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে নেয়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি আরও জোরদার করে। কিন্তু তার আগেই যা হওয়ার হয়ে গেছে। দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রকে ট্রোল শুরু হয়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা সিবিএসই বোর্ডের ছাত্রদের সঙ্গে কথোপকথনে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘আমার সঙ্গী দেশবিরোধী, সোরোস এজেন্টদের সঙ্গে একটি মজার আলোচনা।’ রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘বেদান্ত এবং তার বন্ধুরা খুব বুদ্ধিমান ও সাহসী তরুণ ভারতীয়, যারা সিবিএসই এবং মোদী সরকারকে কিছু সহজ প্রশ্ন করেছিল, কিন্তু উত্তরের পরিবর্তে তারা অপমান পেয়েছে। তারা একটি উজ্জ্বল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ পাওয়ার যোগ্য। আমরা তা নিশ্চিত করব।’

সিবিএসই কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করার একদিন পর রাহুল গান্ধী এই ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) স্বীকার করেছে যে বেদান্তের রোল নম্বরে পদার্থবিজ্ঞানের একটি ভুল উত্তরপত্র আপলোড করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বোর্ড তাকে সঠিক উত্তরপত্রটি পাঠিয়ে দেয়। অনলাইনে যারা তাকে বিভিন্ন নেতিবাচক কমেন্ট করেছেন তাদের সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তব ও তার বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

রাহুল গান্ধীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল হওয়ার বিষয়ে এক ছাত্র জানায়, ‘দেশদ্রোহী এবং পাকিস্তানি বলতে শুরু করে। কিছু লোক বিশ্বাস করতে শুরু করে যে আমরা ডিপ স্টেটের এজেন্ট এবং ভারতে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছি।’ ছাত্রটির কথা শোনার পর রাহুল গান্ধী তার ওপর হওয়া অনলাইন আক্রমণের সমালোচনা করেছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এসবের সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তুমি শুধু তোমার উত্তরপত্র চেয়েছো। হঠাৎ করেই দেশদ্রোহী হয়ে গেলে।’ রাহুলের মন্তব্য, যদি কোনো সমস্যার সমাধান করতে চান, তাহলে প্রথমে তা স্বীকার করতে হবে। আসল সমস্যাটা কী, তা আপনারা স্বীকারই করতে চাইছেন না। আপনারা গরিব শিশুদের দোষারোপ করছেন আর বলছেন, ‘আপনারা হলেন ডিপ স্টেট, আপনারা গুপ্তচর, আপনারা সন্ত্রাবাদী।’