পথে নামছেন মমতা, কী বার্তা দেবেন তৃণমূলনেত্রী?

13

নিউজ ডেস্ক: পরাজয় এসেছিল উনত্রিশ দিন আগে। দলের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে রাজ্যের মসনদ। নিজেও পরাজিত ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। এরপর আজ পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলের কর্মী-সমর্থকদের বার্তা দিতেই কর্মসূচি তৃণমূল সুপ্রিমোর।

দীর্ঘ প্রায় এক মাসে গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে জল। এক সময়ের ছায়াসঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে বাংলা সামলাচ্ছেন। দিকে দিকে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। সোনারপুরে আক্রান্ত হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী চেহারা দেখা গিয়েছে দলের একাংশ বিধায়ক ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এই পরিস্থিতি বার্তা দিতে রানি রাসমণি রোডে ধর্না দিতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পুলিশের তরফে বিকল্প হিসেবে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে খবর। সারাদিনের পরিবর্তনে ২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল পুলিশ। নতুন করে অনুমতির আবেদনেরও কথা বলা হয়। কিন্তু সেদিকে না হেঁটেই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ ধরে পদযাত্রা করবেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, পুলিশের অনুমতি না পেলে আদালতে যাবেন না। সাধারণ নাগরিক হয়েই প্রতিবাদ দেখাবেন।

ভোটে ভরাডুবির পর একবারই তাঁকে দেখা গিয়েছিল বাইরে বেরোতে। ভোট পরবর্তী অশান্তির অভিযোগে হাইকোর্টে গিয়ে নিজে মামলা লড়েছিলেন। কিন্তু শুনানির পর বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয় আইনজীবীদের একটা বড় অংশ। তারপর থেকে আর তাঁকে রাস্তায় দেখা যায়নি।

এদিকে ছাব্বিশের ভোটে দলের ভরাডুবির পর কার্যত মুষল পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে দলের অন্দরে। দলের ভিতরেই চলছে তীব্র সমালোচনা। ইতিমধ্য়েই পদত্যাগ করেছেন দলের বহু কাউন্সিলর। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও দেখা গিয়েছে বহু নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রীকেও। ভোটের ফল ঘোষণার পর তিনবার কালীঘাটে বিধায়কদের বৈঠক ডাকা হয়। তিনবারই কমেছে বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতির সংখ্যা। রবিবার বিধায়কদের বৈঠকে হাজির থেকেছেন মাত্র ২০ জন বিধায়ক। তার পরদিনই, সোমবার বিধানসভার সই কাণ্ডে দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।

এই অবস্থায় মঙ্গলবার পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পথেই আন্দোলন, রাজনীতি। পথে নেমেই মানুষের কাজ করা। প্রতিবাদ করতে হলেও সেই পথই পথ। এই নীতিতে বরাবর বিশ্বাসী তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পরও প্রথমবার কর্মসূচি করতে সেই পথেই নামছেন তিনি।

এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “রানি রাসমণি রোডে তো সভা করার অনুমতি পেয়েছে। আজ তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলেও তাদের কোর্টে গিয়ে অনুমতি আনতে হচ্ছে। তৃণমূলের এ ধরনের কথা এখন আর কেউ শুনছে না। অস্তাচলে তৃণমূল।”

তবে পথ থেকেই ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় নেমে সংগঠনকে চাঙ্গা করার বার্তা দিতেই সক্রিয় হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।