নিউজ ডেস্ক :২০১১ সাল। সদ্য ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৬ মে খুন হন পরিবেশবিদ তপন দত্ত। তিনি হাওড়ার বালি এলাকার তৃণমূল নেতা ছিলেন। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। মূলত বালি এবং জগাছা এলাকায় জলাজমি ভরাটের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সেকারণে অপরাধীদের নিশানা হন এবং খুন হন।
খুনের পর দলেরই এক অংশের নেতার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন নিহত তপন দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। এফআইআরে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় সহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম জড়ায়। এই খুনের তদন্তভার তৎকালীন তৃণমূল সরকার সিআইডির হাতে তুলে দেয়। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে সিআইডি স্পষ্ট কোনও কারণ ছাড়াই প্রধান অভিযুক্ত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দিয়ে দেয়। রাজ্য রাজনীতিতে এনিয়ে প্রবল হইচই হয়।
সিআইডি তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় দত্ত পরিবার। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে তপন দত্ত খুনের মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্যের তৃণমূল সরকার। কিন্তু সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বহাল রাখে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ২০২২-এই ফের নতুন করে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। কিন্তু তারপর থেকে এই তদন্ত কার্যত ঢিমেতালে চলছে। ২০২৫ সালের মার্চে এই মামলা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দেয় উচ্চ আদালত। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।
এদিন এই মামলার অগ্রগতি এবং তা দ্রুত শেষ করার আর্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন নিহত তপন দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ‘তদন্ত অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। তদন্তের গতি বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি সিবিআইকে এনিয়ে কোনও নির্দেশ দিতে পারেন না তবে কী করা যায় তা তিনি দেখছেন। আমি তাঁর আশ্বাসে সন্তুষ্ট।’
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা তপন দত্ত খুন মামলায় পশ্চিমবঙ্গ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ও লড়াইয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কলকাতা সহ শহরতলীর বহু এলাকায় পরিবেশ ধ্বংস নিয়ে তৃণমূল জমানায় নানা অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সরকারি তরফে সেভাবে কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সেদিক থেকে এই মামলার নিষ্পত্তি হলে পরিবেশ আন্দোলনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং অপরাধের বিরুদ্ধে বিচারের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে বলেই অনেকের মত।