২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ-এর স্কোয়াড নিশ্চিত: ১,২৪৮টি স্বপ্ন এবং খেলোয়াড়দের একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক দল

40

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের চিরসবুজ তারকা লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং গুইলারমো ওচোয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া অসংখ্য তারকাদের অন্যতম। ফিফার কাছে চূড়ান্ত স্কোয়াড তালিকা জমা দেওয়ার পর, ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী রেকর্ডসংখ্যক ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিl হয়েছে। বৈশ্বিক মহাতারকা থেকে শুরু করে নবাগত—এই স্কোয়াডগুলো টুর্নামেন্টের অভূতপূর্ব বৈচিত্র্য এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিনিধিত্বের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং গুইলারমো ওচোয়া তাদের ঐতিহাসিক ষষ্ঠ ফিফা বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের জন্য প্রস্তুত। কানাডা, মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্টের কিক-অফ বা উদ্বোধনী ম্যাচের মাত্র নয় দিন বাকি থাকতে ফিফা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ-এর চূড়ান্ত স্কোয়াড তালিকা প্রকাশ করেছে, যা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম একটি আকর্ষণ। ৩টি দেশের মাঠ জুড়ে মোট ১০৪টি ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য ৪৮টি দল এবং ১,২৪৮ জন খেলোয়াড় প্রস্তুত। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত, যা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি দেশ, খেলোয়াড় এবং তাদের ভক্তদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এবারের বিভিন্ন দলের স্কোয়াডে এই টুর্নামেন্টের ব্যাপকতা এবং চিরন্তন আবেদনকে আরও একবার প্রমাণ করে। এবার অন্তত একটি পূর্ববর্তী ফিফা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাসহ মোট ৩৫৭ জন খেলোয়াড় বিশ্বমঞ্চে ফিরছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৮৯১ জন খেলোয়াড় প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছেন, যা বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতা এবং নতুনত্বের এক দারুণ মেলাবন্ধনকে নির্দেশ করে।খেলোয়াড়দের বয়সের ব্যবধান বা প্রজন্মের বিস্তৃতিও সমানভাবে চমকপ্রদ।

সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় স্কটল্যান্ডের ক্রেগ গর্ডন, বয়স ৪৩ বছর ১৬২ দিন এবং সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়ের (মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা, বয়স ১৭ বছর ২৪০ দিন) মধ্যে ২৫ বছরেরও বেশি বয়সের ব্যবধান রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময়ে ২০ বছরের কম বয়সী মোট ২২ জন খেলোয়াড় এবং ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৭ জন খেলোয়াড় এই আসরে ফিচার করতে পারেন। পাশাপাশি, আগের ২২ জন ফিফা বিশ্বকাপ জয়ী তারকা আবারও বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চে ফিরছেন আসছেন

ফুটবলের বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠিত তারকাদের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি, এই টুর্নামেন্টটি একঝাঁক নতুন খেলোয়াড় এবং দেশকে স্পটলাইটে নিয়ে এসেছে। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের স্বাদ পেতে যাচ্ছে। এটাই প্রমাণ যে, বিশ্বকাপের এই বর্ধিত বা নতুন ফরম্যাটটি বিশ্ব ফুটবলকে কতটা নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করছে।সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্পগুলোর একটি হলো বিশ্বমঞ্চে উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক প্রথম উপস্থিতি, যেখানে ম্যানচেস্টার সিটির আবদুকোদির খুসানভের মতো উদীয়মান তারকারা নিজ দেশের স্বপ্ন পূরণ করছেন।

নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যান্য আকর্ষণীয় নামের তালিকায় রয়েছেন ফ্রান্সের ওয়ারেন জাইর-এমেরি, নিউজিল্যান্ডের ফিন সারম্যান এবং মরক্কোর বিলাল এল খানৌস সহ আরও অনেকে। এদিকে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, পর্তুগিজ জাদুকর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গোলকিপিং আইকন গুইলারমো ওচোয়া রেকর্ড সৃষ্টিকারী ষষ্ঠ ফিফা বিশ্বকাপ ক্যাম্পেইনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।নিশ্চিত হওয়া এই তালিকাগুলো আধুনিক ফুটবলের বৈশ্বিক রূপকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ৭১টি দেশের ৪৪৯টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাব থেকে খেলোয়াড়রা প্রতিনিধিত্ব করছেন এএফসি অঞ্চল থেকে ১৪টি, সিএএফ থেকে ৬টি, কনকাকাফ থেকে ৭টি, কনমেবল থেকে ৮টি, ওএফসি থেকে ১টি এবং উয়েফা থেকে ৩৫টি ক্লাব।

স্কোয়াড তালিকায় বিভিন্ন দেশের ফুটবল কাঠামোর ভিন্ন চিত্রও ফুটে উঠেছে। যেমন কাতার এবং সৌদি আরব—যাদের স্কোয়াড সম্পূর্ণ দেশীয় লিগে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত । এর বিপরীতে কাবো ভার্দে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও, সেনেগাল এবং উরুগুয়ের মতো দেশগুলো তাদের পুরো স্কোয়াড সাজিয়েছে সম্পূর্ণ বিদেশি লিগে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে।

যারা এই দলগুলোর নেপথ্যে বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে ঘানার পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজ টানা পঞ্চম ফিফা বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০১০ সালে পর্তুগাল এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালে ইরান জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বোরা মিলুতিনোভিচের (১৯৮৬-২০০২) পর তিনি মাত্র দ্বিতীয় কোচ যিনি টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে ডাগআউটে দাঁড়াচ্ছেন।নিশ্চিত হওয়া এই স্কোয়াড তালিকাগুলো মূলত ফুটবল খেলার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব, বৈচিত্র্য এবং বৈশ্বিক ঐক্যের এক অনন্য উদযাপনকে ফুটিয়ে তোলে।

৪৮টি অংশগ্রহণকারী সদস্য দেশের অ্যাসোসিয়েশন ১ জুন ফিফার কাছে সম্পূর্ণ স্কোয়াড তালিকা জমা দিয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নিয়মাবলী অনুযায়ী, কোনো দলের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত গুরুতর আঘাত বা অসুস্থতার কারণে খেলোয়াড় পরিবর্তন করার অনুমতি দেওয়া হবে, যদি না ফিফা কর্তৃক অন্য কোনো বিশেষ অনুমোদন থাকে।