পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা : ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। একই সঙ্গে বাড়ির মালকিন আরতি রায়চৌধুরীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশে অভিযোগ করার পরই জয়প্রকাশকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন প্রকাশ্য রাস্তাতেই জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাড়ির মালকিন আরতি রায়চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁকে বাড়ির তালা খুলে দিতে অনুরোধ করা হয়। আরতি রায়চৌধুরীর মেয়ের অভিযোগ, ‘১৪ বছর ধরে থাকতে না পেরে তাঁর মাকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।’
বিতর্কের সূত্রপাত বহু বছর আগে। অভিযোগ, ২০১২ সালে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। সেই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। অভিযোগ ফ্ল্যাটটির মালিকের মৃত্যু হওয়ায় তাঁর স্ত্রী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্ল্যাটটি খালি করে দিতে বলেন। অভিযোগ পুরনো চুক্তির কোনও নবীকরণ না হওয়া সত্ত্বেও ফ্ল্যাটটি খালি না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাপ থেকে গেছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। এমনকি ভাড়ার টাকা চাওয়া হলে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ বর্তমান বাড়ির মালকিন আরতি রায়চৌধুরীর। উল্লেখ্য দিন কয়েক আগে ফ্ল্যাটের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে জয়প্রকাশ মজুমদারের পরিবারের সঙ্গে বাড়ির মালকিন আরতি রায়চৌধুরী তীব্র বচসা বাধে। অভিযোগ সেই সময় মালকিন জয়প্রকাশ মজুমদারের স্ত্রীকে চড় মারেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভাইরাল হয়।
বুধবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ফ্ল্যাটে তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে। দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁরা জয়প্রকাশ মজুমদারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ির চাবিও কেড়ে নেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, জয়প্রকাশকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে। উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে উত্তর বিধাননগর থানার পুলিশ। পরে আরতি রায়চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্রকে। তাঁর বিরুদ্ধে বাড়ির মালিক আরতী রায়চৌধুরীকে হুমকি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে জয়প্রকাশ মজুমদারকে।