নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ চলো অভিযান ঘিরে দিল্লিতে তুলকালাম। প্রায় ৮ হাজার যুব সকাল থেকে সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।
বৃষ্টির মধ্যেই যন্তরমন্তর থেকে মিছিল শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির প্রবল বৃষ্টিতে অনেকেই বর্ষাতি পরে, হাতে সংবিধান এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে শামিল হয়। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করছে দিল্লি পুলিশ।
অভিযানকারীদের বক্তব্য, ভারী বৃষ্টি এবং আঁটোসাঁটো নিরাপত্তাও আমাদের থামাতে পারবে না। মিছিলে স্লোগান ইনকিলাব জিন্দাবাদ ও বন্দেমাতরম। নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন ককরোচ জনতা পার্টি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। তার ৮ দিন পরে লাদাখের পরিবেশদ, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক সেই মঞ্চেই অনশনে বসেন। অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ তাঁকে জোর করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। ওয়াংচুকের সঙ্গেই অনশন চালিয়ে যাওয়া তিন পড়ুয়া সোমবার সকালে অনশনভঙ্গ করেছেন। সোনম ওয়াংচুক রবিবার জানিয়েছেন, রাজনীতিকরা তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন।
সংসদ চলো অভিযানে অংশ নিয়ে শাবানা আজমি বলেছেন, আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে এসেছি। এই অধিকার সংবিধান দিয়েছে আমাদের।
ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ চলো অভিযানের জের ‘নিরাপত্তার কারণে’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দিল্লির বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন। জনপথ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ স্টেশন বন্ধ। যন্তর মন্তর এবং সংসদ ভবন চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে র্যা ফ। নিরাপত্তায় মোতায়েন অন্তত ৫০০০ পুলিশকর্মী।
সোমবার থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই মধ্য দিল্লিতে সংসদ ভবন লাগোয়া এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। রয়েছে আধাসেনা এবং সিএপিএফ জওয়ানরাও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান।
এদিকে, সোমবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্সও। জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে তারা।
রবিবারই দিল্লি হাই কোর্ট জানায়, সোনমকে এখনই অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। এ বার ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি বলেছেন, আমার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক এবং সক্ষম। তাঁর চিকিৎসা নিতে রাজি হওয়া বা তা নিতে অস্বীকার করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সোনমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাসপাতালে তাঁকে বন্দি করে রাখা যায় না বলেও জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি।