নিউজ ডেস্ক : তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন। আর সেই ভাঙন নিয়েই এবার বিদ্রোহী সাংসদ থেকে বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদরা। গতকালই দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদদের একাংশ। এরপরই নিজেদেরকে ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন তাঁরা। লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েও জানিয়ে দেন, তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।
দিল্লিতে যখন ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন তৃণমূল সাংসদদের একাংশের শিবির বদলে গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। সেই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপিকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে নিজের অবস্থানটা স্পষ্টও করে দিলেন। কল্যাণের মন্তব্য, ‘বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ইডি-সিবিআইয়ের মত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে। তোমাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আছেন ,ইডি-সিবিআই আছে,পুরো ভারতের ক্ষমতা আছে। কিন্তু আমার কাছে মা মাটি মানুষ আছে। মা হল আমার পার্টি , আমার সঙ্গে আমার পার্টির কর্মীরা আছেন,আমার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ আছে।’
‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে সামনে রেখেই সুর চড়িয়েছেন তৃণমূলে বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত কীর্তি আজাদও। তৃণমূল সাংসদের মন্তব্য, ‘আমাদের ২৯জন সাংসদ মা মাটি মানুষের নামেই জয়ী হয়েছেন। আমি সেই বিশ্বাসঘাতকদের থেকে জানতে চাই, কেন নির্বাচনের পর সরব হচ্ছেন, নির্বাচনের আগে কেন হলেন না? একমাত্র সুখেন্দুশেখর রায় রাজনৈতিক নীতিবোধ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আপনাদের তা থাকলে আপনারাও ইস্তফা দিয়ে বিজেপির টিকিটে লড়াই করতে পারতেন।’
তবে স্পিকারকে চিঠি দিলেও সেখানে কতজন সাংসদের সই আছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কীর্তি আজাদ। তাঁর মন্তব্য, ‘স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে এখনও পর্যন্ত তাঁরা স্পষ্ট করেননি কতজন সই করেছেন। যদি বিজেপিতে যেতে চান, তাহলে যেতেই পারেন। অন্যের সিঁদুর নিজের মাথায় লাগিয়ে নিয়েছে বিজেপি। যদি বিজেপিতে যেতে চান, তাহলে যান, তবে তৃণমূলের নাম নিয়ে নয়।’
গোটা ঘটনা নিয়ে মমতা ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করছে, তখন পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপিও। বিজেপি মুখপাত্র শেহেজাদ পুনেওয়ালার মন্তব্য, ‘৬০জন তৃণমূল বিধায়ক নিজেদের আসল বলে দাবি করে মমতা-অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। এখন সাংসদরাও অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে দূরত্ব রাখা শুরু করে দিয়েছেন।’