নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক অস্থিরতা এবার হিংসতার রূপ নিল পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে পথে নামেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan Occupied Kashmir) বাসিন্দারা। আর তারপরই পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে বিক্ষোভকারীদের। তাতে একাধিক মৃত্যুর খবর মিলেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত বহু।
আন্দোলনকারীদের সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি(JAAC)-র সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মৃতদের মধ্যে তিনজন সাধারণ নাগরিক এবং চারজন পুলিশ বলে জানা গেছে।
কীভাবে অগ্নিগর্ভ হল পরিস্থিত?
গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত এক কর্মীর মরদেহ যখন একটি হাসপাতালের মর্গে আনা হয়, তখনই JAAC-এর সমর্থকরা জড়ো হন। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত।
JAAC-কে কেন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত?
গত সপ্তাহে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনের আওতায় ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-কে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের পরই ক্ষোভের শুরু। JAAC-এর যুক্তি হলো, সংগঠনটি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সব যৌক্তিক বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়ে আসছিল। এই নিষেধাজ্ঞার পরই এলাকায় ধর্মঘটের ডাক দেয় তারা।
বিক্ষোভকারীদের কী দাবি?
JAAC-এর দাবি ৪৫ সদস্যের আইনসভায় ১২টি আসন এমন শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত, যারা কাশ্মীরের বাইরে কিন্তু পাকিস্তানের অন্য কোনও এলাকায় বসবাস করছেন। এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় রাজনীতিকরা। তবে বিষয়টি কেবল আইনসভার আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গত ২ বছর ধরে সেখানে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ সঙ্কট, বেকারত্ব, ইউটিলিটি বা পরিষেবা খাতের বেশি খরচ এবং অঞ্চলটিকে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে ফেলার অভিযোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ দেখিয়েছে JAAC।
পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এই হিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনের আওতায় JAAC-কে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কমিশন জোর দিয়ে বলেছে যে মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার থাকা উচিত। সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে জনগণের ক্ষোভ নিরসন করারও দাবি উঠেছে।
পাকিস্তানের এই পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘এটি পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা আড়াল করার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা পাকিস্তানের।’