তৃণমূলে আরও ভাঙন, রাজ্যসভার সাংসদ ও দল থেকেও ইস্তফা প্রকাশ চিকের

40

নিউজ ডেস্ক: সোম, বুধ ও বৃহস্পতি। ৩ দিনে রাজ্যসভার ৩ তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিলেন। দল থেকেও পদত্যাগ করলেন। বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে সাংসদ পদে ইস্তফাপত্র জমা দেন প্রকাশ। আলিপুরদুয়ারের এই তৃণমূল নেতার ইস্তফায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা এখন ১০ জন। ইস্তফা দিয়ে প্রকাশের চিকের দাবি, ‘মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেয়নি, সেই রায় মেনে নিয়ে ইস্তফা দিলাম। আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নে সামিল হব।’

তবে কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন প্রকাশ চিক বরাইক? যদিও এখনই তিনি কিছু খোলসা করেননি। আলিপুরদুয়ারে তৃণমূলের জেলাসভাপতি পদেও ছিলেন প্রকাশচিক। তাঁকে দিয়ে চাবাগান সহ পাহাড়ের একাংশের সংগঠন ধরে রাখতে সাংগঠনিক দায়িত্বও দিয়েছিল তৃণমূল। পঞ্চায়েত প্রধান থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পর। এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া কি সময়ের অপেক্ষা প্রকাশচিকের?

তাৎপর্যপূর্ণ হল সোমবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। দল থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। সেই দিনই সুখেন্দুশেখর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আগামী দিনে আরও তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দেবেন। ঘটনাক্রমও সেই দিকেই এগোচ্ছে। । একই পথ বুধবার অবলম্বন করেন সুস্মিতা দেব। হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত ধরে তৃণমূল ছাড়েন সুস্মিতা। বৃহস্পতিবার প্রকাশচিক বরাইক তৃণমূল ছাড়লেন।

এদিকে, লোকসভার তৃণমূল সাংসদরা কেউ দল থেকে ইস্তফা দেননি। সাংসদ পদেও ইস্তফা দেননি তাঁরা। বরং স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর দাবি তাঁরা NDA-কে সমর্থন করবেন। তাঁরাই আসল তৃণমূল বলে সংসদে বিরোধী আসনে বসতে চান। এই সব ঘটনাই ঘটে গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের দিল্লি সফরের মধ্যেই। ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন দিল্লিতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ ব্লকে যুক্ত হতে চেয়ে সই করেছিলেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসাত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল (বোলপুর), বাপি হালদার (মথুরাপুর), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), জগদীশ বসুনিয়া (কোচবিহার), কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), পার্থ ভৌমিক (ব্যারাকপুর), শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব), দেব (ঘাটাল), আবু তাহের (মুর্শিদাবাদ) এবং খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি)।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (শ্রীরামপুর), মহুয়া মৈত্র (কৃষ্ণনগর), সৌগত রায় (দমদম), সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (কলকাতা উত্তর), কীর্তি আজাদ (বর্ধমান দুর্গাপুর)। সূত্রের খবর, এখনও বিজেপির তরফে বেশকিছু তৃণমূল সাংসদের কাছে ফোন আসছে। ফলে কতদিন বাকিরাও মমতা শিবিরে থাকেন সেটাই দেখার।